বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ওডেসায় রাশিয়ার হামলায় নিহত ৩, পাল্টা আঘাত ইউক্রেনের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

ওডেসায় রাশিয়ার হামলায় নিহত ৩, পাল্টা আঘাত ইউক্রেনের

ছবি : সংগৃহীত

ওডেসায় রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন বলে শহরের সামরিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। রয়টার্স এবং এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় ওডেসার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, দক্ষিণ অঞ্চলে রাশিয়া লাগাতার পঞ্চম দিনের মতো ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বেসামরিক এবং শিল্প অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলাটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন দুই দেশের মধ্যে কৃষ্ণসাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ২০টি নৌযান লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। কিয়েভের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানিয়েছেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ১৭টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার, দুটি গ্যাস ট্যাঙ্কার এবং একটি টাগবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ওডেসার বন্দর এলাকাগুলোতে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া, যা ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি ও যুদ্ধের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওডেসার এই বন্দরগুলো থেকে ইউক্রেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শস্য ও খাদ্যশস্য রপ্তানি করে থাকে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওডেসার বন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে কারণ সেখানে জ্বালানি সংরক্ষণ এবং ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম ছিল। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার লজিস্টিক ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে এবং ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার দখলদারিত্ব দুর্বল করতে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া মনে করছে, এই বন্দরগুলোর মাধ্যমেই ইউক্রেন সামরিক রসদ এবং অস্ত্র আমদানি করছে। তাই রাশিয়া গত কয়েকদিন ধরে ওডেসার দিকে তাদের আক্রমণ কেন্দ্রীভূত করেছে।

ইউক্রেন তাদের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ড্রোন প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করছে। এর আগেও কিয়েভ দাবি করেছিল যে, তারা কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনীর ওপর সফল অভিযান চালিয়েছে। তবে রাশিয়ার তরফ থেকে এই দাবিগুলোকে সব সময় সরাসরি স্বীকার করা হয় না। বর্তমানে পুরো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলটি যুদ্ধের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য সরবরাহ এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কিয়েভে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরসুলা ভন ডের লিয়েন পৌঁছেছেন এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একীভূত করার নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কৃষ্ণসাগর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রভাব কতটা ব্যাপক হবে তা নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা মত দিচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও এই সংঘাতের একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

banner
Link copied!