ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা সিইটিএ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের হাজার হাজার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পরিষেবা খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হয়েছে। রয়টার্স ও আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
চুক্তির আওতায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্যের বাজারে অধিকাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য এবং রত্ন ও গয়না শিল্পের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো ধাপে ধাপে শুল্ক কমানোর মাধ্যমে ভারতের বাজারে আরও বড় পরিসরে প্রবেশাধিকার লাভ করবে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযূষ গয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। দুই দেশের পরিষেবা খাতের বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অর্জনকে দুই দেশের গণতন্ত্রের প্রতি পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চুক্তির ফলে ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু ব্রিটিশ পণ্য সস্তা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কসমেটিকস, হুইস্কি, চকোলেট, কোমল পানীয় এবং ভেড়ার মাংস। এছাড়া ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের গাড়ি, ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাওয়া যাবে। এর বিপরীতে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতীয় মশলা, শাকসবজি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং ফলের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তিতে কাজের জন্য যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারী ভারতীয় পেশাজীবীদের পাঁচ বছরের জন্য ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে অবদানের বিষয়টি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু সংবেদনশীল খাতকে এই চুক্তির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি, ডিম, চিনি এবং দুগ্ধজাত পণ্য। এছাড়া আপেল, আখরোট এবং নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির স্মার্টফোন ও স্বর্ণের বারকে এই চুক্তির সুবিধা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তিটি দুই দেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আইটি, আর্থিক সেবা, শিক্ষা এবং টেলিকম খাতের পেশাজীবীদের জন্য নতুন পথ খুলেছে। প্রায় ৭৫ হাজার পেশাজীবী এবং ৯ শতাধিক কোম্পানি এই সিইটিএ চুক্তির মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে আশা করছে ভারত সরকার। দুই দেশের সরকারই প্রত্যাশা করছে, এই অংশীদারিত্ব প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন গতির সঞ্চার করবে।
