বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার কি ফুরিয়ে আসছে?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার কি ফুরিয়ে আসছে?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে। সম্প্রতি আল জাজিরা ও রয়টার্স-এর প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের বড় একটি অংশ ব্যবহৃত হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার পেনসিলভানিয়ায় এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে এই ভাষণের ঠিক আগ মুহূর্তে অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বাহরাইন, ওমান, কাতার এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক সম্পদে আঘাত হেনেছে। চার রাত ধরে চলা এই বিমান হামলায় রেললাইন ও সেতুসহ ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে চায়। তবে এই হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩৯ দিনের সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই অভিযানে টমাহক মিসাইল, জ্যাসসম, প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের অর্ধেকের বেশি মজুদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এসব অস্ত্রের সঠিক হিসাব প্রকাশ করা হয় না, তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন করে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মার্কিন বাহিনীর এই নতুন ঢেউয়ের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান আলোচনার টেবিলে না বসলে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ব্রিজগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, অস্ত্রভাণ্ডারের এই হ্রাস মার্কিন বাহিনীকে ভবিষ্যতে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থানে ফেলতে পারে।

দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দোষারোপ করছে। নাটো নেতাদের সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, সমঝোতার সুযোগ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এই যুদ্ধের ফলে উভয় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমে আসছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল স্থানীয় সীমাবদ্ধতায় নেই। এটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং যুদ্ধের রসদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অস্ত্রের এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ওয়াশিংটনকে তাদের বৈশ্বিক সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা সম্মেলনের ভাষণে এই অস্ত্র সংকটের বিষয়টি কীভাবে উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান বেরিয়ে আসে কি না।

banner
Link copied!