পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদে একটি পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আল জাজিরা ও এএফপি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের চার তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে এবং আহত হয়েছেন ৭৯ জন। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রথম সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, একটি অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালাতে গেলে বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। অন্যদিকে, সুদনতি জেলায় একটি নিরাপত্তা কনভয়কে ঘিরে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সেখানে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ ও গুলি চালায়। এতে সাতজন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তারা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের আইনসভার ১২টি আসন, যা ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানমুখী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি নামের একটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে, এই ব্যবস্থার ফলে বাইরে থেকে আসা রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয়দের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ সরিয়ে নিচ্ছে এবং সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। গত মাসে আঞ্চলিক সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, সাংবিধানিক সংশোধনী ছাড়া এই আসনগুলো বাতিল করা সম্ভব নয়। এই রায়ের পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ নতুন রূপ পায়।
বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে গত ৫ জুন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটি বুধবার দুপুর দুইটায় মুজাফফরাবাদে বড় ধরনের মিছিলের ডাক দিয়েছিল। তবে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। পুরো অঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা severely সীমিত করা হয়েছে, ফলে বিক্ষোভকারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মুজাফফরাবাদের ডেপুটি কমিশনার মুনির কোরেশি জানিয়েছেন, রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং জনজীবনে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।
তবে রাওয়ালাকোটে এখনো তিন থেকে চার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলি মালিক। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অঞ্চলটিতে প্রায় চার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই অঞ্চলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক এই সংঘাত স্থানীয় জনজীবনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পর্যটন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এই অস্থিরতায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
