টুইটার আজ তার যাত্রার ২০ বছর পূর্ণ করল। ২০০৬ সালের ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই এই প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বব্যাপী তথ্যের আদান-প্রদান এবং সাংবাদিকতার ধারা বদলে দিয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক আলী হাশেম তার অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, নব্বইয়ের দশকের ইন্টারনেট যুগে নিজের কথা বিশ্বকে শোনানোর মতো কোনো কার্যকর মাধ্যম ছিল না। টুইটারের আবির্ভাব সেই দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ করেছে এবং সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই যেন বদলে দিয়েছে।
আলী হাশেম তার শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, নব্বইয়ের দশকে তিনি অ্যাঞ্জেলফায়ার বা এইটএম এর মতো সাইটে ওয়েবসাইট তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় নিজস্ব মতামত বা খবরের বার্তা পৌঁছানোর মতো কোনো উপযুক্ত ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি ছিল অনেকটা জনমানবহীন কোনো এলাকায় পণ্য বিক্রির দোকান খোলার মতো। এরপর মাইস্পেস এসেছিল, কিন্তু সেখানেও সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয় রসদ বা পরিবেশ তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। এরপর টুইটার যখন এল, তখন এটি যেন সাংবাদিকতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করল।
টুইটার শুরুর পর থেকেই এটি দ্রুত ব্রেকিং নিউজের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। আলী হাশেমের বিবিসি ক্যারিয়ারের শুরুতে তার সহকর্মীরা বলতেন, এটি যেন নিজস্ব একটি ব্রেকিং নিউজ মাধ্যম, যেখানে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের এজেন্ডা নির্ধারণ করতে পারেন। সাংবাদিকতা পেশায় এই পরিবর্তন ছিল সুদূরপ্রসারী। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিপ্লব, যুদ্ধ এবং বড় বড় ঘটনা প্রবাহের সাক্ষী হিসেবে টুইটার নিজেকে এক অপরিহার্য মাধ্যমে পরিণত করেছিল।
তবে গত দুই দশকে এই প্ল্যাটফর্মের চরিত্র ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এর মালিকানা পরিবর্তনের পর প্ল্যাটফর্মটিকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করা হয় এবং এর নাম রাখা হয় এক্স। নীল পাখির সেই পরিচিত লোগো হারিয়ে এখন প্ল্যাটফর্মটির নতুন পরিচিতি দাঁড়িয়েছে এক্স। এই পরিবর্তন নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। অনেকের মতে, টুইটারের সেই পরিচিত রূপটি এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
আলী হাশেম মনে করেন, টুইটারের শুরুর দিনগুলোতে যে উন্মুক্ত এবং সরাসরি যোগাযোগের পরিবেশ ছিল, আজকের এক্স বা সমসাময়িক প্ল্যাটফর্মগুলোতে তা কিছুটা ম্লান হয়ে এসেছে। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গত বিশ বছরে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে টুইটার যে বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছে, তা সাংবাদিকতার ইতিহাসে অনন্য। আজকের ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে যখন সাংবাদিকতাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তখন এই প্ল্যাটফর্মের ২০ বছরের পথচলা আমাদের অনেক কিছু শেখায়।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা টুইটারের বা বর্তমান এক্স-এর দিকে তাকাই, তখন এটি কেবল একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ হিসেবে ধরা দেয় না। বরং এটি বিশ বছরের একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের দর্পণ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে। সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য এই প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। হয়তো সামনে আরও নতুন মাধ্যম আসবে, কিন্তু টুইটার তার ২০ বছরের পথচলায় যে সাংবাদিকতার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল, তা সবসময় অমর হয়ে থাকবে।
