থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় পাব-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে বত্রিশ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা গেছেন। রয়টার্স, এএফপি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যানুযায়ী, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবহেলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।
এরাওয়ান ইমার্জেন্সি মেডিকেল সেন্টারের বুধবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে তিরিশ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে পনেরো জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত চুয়াল্লিশ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গত রবিবার রাতে ব্যাংককের রং বিয়ার না লাদপ্রা নামের একটি পাব-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এটি গত সতেরো বছরের মধ্যে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ত্রিশ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটের প্রধান ভিরুন সুপাসিংসিরিপ্রিচা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে দগ্ধ হয়ে। স্থানীয় পুলিশ ও তদন্তকারী দল জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলোর বেশিরভাগই বাথরুমের ভেতর থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে তারা বাথরুমের জানালাবিহীন ছোট কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি, তবে পুলিশ ভবনের নকশা এবং জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ ছিল কি না তা নিয়ে তদন্ত করছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্ভবত ছাদের সাথে লাগানো একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছিল। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, মঞ্চের চারপাশে থাকা দাহ্য ও শব্দ শোষণকারী পদার্থ খুব দ্রুত তাপ এবং বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করেছিল, যা দমকল বাহিনীর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা বুধবার ফাহনিওথিন পুলিশ স্টেশনে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
নাথাফং লাকহর্ন নামের ছাব্বিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি মঞ্চের খুব কাছে ছিলেন। তিনি জানান, আগুন লাগার পর পরই পুরো পাবের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় তিনি তার এক আত্মীয়কে হারিয়েছেন। আরেক ভুক্তভোগী কান্তিচা সিংখন তার মাকে এই অগ্নিকাণ্ডে হারিয়েছেন। মালিকপক্ষের আইনজীবী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দশ হাজার বাথ বা প্রায় তিনশ মার্কিন ডলার প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
