বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রাম্পের আইসিসি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

ট্রাম্পের আইসিসি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে ওয়াশিংটনে একটি নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বুধবার ডন (DAWN) এবং ট্যাক্সপেয়ারস অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট জেনোসাইড (TAAG) এই মামলাটি দায়ের করে। মামলার বাদীপক্ষ দাবি করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত হানে এবং বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের সুযোগকে সংকুচিত করে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের—বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে অংশগ্রহণকারী আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এই তদন্তে সমর্থন দেবে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এই নির্বাহী আদেশের অধীনে আইসিসির প্রসিকিউটর ও বিচারক, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বাদীরা তাদের মামলায় যুক্তি দেখিয়েছেন, এই পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিন সংক্রান্ত মানবাধিকার অ্যাডভোকেসির ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে তথ্য প্রদান কিংবা বিদেশী মানবাধিকার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা মার্কিন আইনের পরিপন্থী।

মামলাটিতে আরও বলা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ড ১৯৭৭ সালে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ)-এর বিরোধী। এই আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা তথ্যের আদান-প্রদান সীমিত করতে পারেন না। আইসিসির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপগুলোকে প্রশাসন যখন আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে পরিচালিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, ঠিক তখনই এই মামলাটি দায়ের করা হলো।

মামলাটি এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্প প্রশাসন এই আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক ভিডিও বার্তায় এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত কলামে আইসিসিকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই আদালত মার্কিন রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার জন্য হুমকি। এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আইনি চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করল।

আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলাটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে এক গভীর বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে। আইসিসিকে অকার্যকর করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের যে কোনো মূল্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মানসিকতা এখন মার্কিন আদালতেই সমালোচনার মুখে পড়ছে। মানবাধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল আন্তর্জাতিক আদালতকেই দুর্বল করছে না, বরং আমেরিকার নিজস্ব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আদালতের রায় এখন দেখার অপেক্ষায় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নির্বাহী আদেশের বৈধতা টিকে থাকে কি না।

banner
Link copied!