গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বিস্তার লাভ করছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার এগারো জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা সাতশ চুয়ান্ন জনে দাঁড়িয়েছে। এমন সংকটময় সময়ে দেশের ইতুরি প্রদেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে ইবোলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুুরি প্রদেশের বুনিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেছেন। তারা হাসপাতালের প্রবেশপথ আটকে অবস্থান নেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সত্ত্বেও তারা কোনো পারিশ্রমিক পাননি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং কাজের অনুকূল পরিবেশের অভাব নিয়েও তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন। বকেয়া বেতন এবং কাজের মানোন্নয়নের দাবিতে তারা কাজ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বুনিয়ার এই আন্দোলনের আগে একই প্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। গত সোমবার রামপারা জেনারেল হাসপাতালের এপিডেমিওলজিস্ট এবং কবর খননকারীসহ কয়েক ডজন স্বাস্থ্যকর্মী তাদের কর্মস্থল ছেড়ে চলে যান। তাদের দাবি, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। ইবোলা সংক্রমণের মতো ভয়াবহ সংকটের সময় এমন আন্দোলন স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক মেডিকেল দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের তৃতীয় বৃহত্তম এবং দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসের এই ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন, কিন্তু তাদের বেতন সংক্রান্ত জটিলতা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বকেয়া বেতনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আক্রান্তদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না করা হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিচ্ছে।
