মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীতে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৯, ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীতে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মারাত্মক ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে রাজধানী কিনশাসাসহ দেশটির চারটি প্রধান অঞ্চলে সব ধরনের গণসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে বলে শনিবার এক সরকারি আদেশে নিশ্চিত করা হয়েছে, বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ যেন ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের শহর রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া অন্য তিনটি প্রদেশ হলো শোপো, ওত উয়েলে এবং বাস উয়েলে, যেগুলোর সবকটিই বর্তমান ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চলের সরাসরি সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের এই আকস্মিক জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কঙ্গোর প্রধান বিরোধী দলগুলো সরকারের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে একে একটি নোংরা রাজনৈতিক চাল হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, আগামী ৮ জুলাই সরকারের বিরুদ্ধে একটি পূর্বনির্ধারিত বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ nস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই এই জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লমুকা বিরোধী জোটের মুখপাত্র প্রিন্স ইপেঙ্গে সোমবার সাংবাদিকদের জানান যে কিনশাসায় এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা রোগী নিশ্চিতভাবে শনাক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং একপেশে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে কঙ্গোর সাধারণ জনগণকে সরকারের এই অন্যায্য আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।

একইভাবে কঙ্গোর অন্যতম প্রধান শক্তিশালী বিরোধী দল এনভোলের সাধারণ সম্পাদক রদ্রিগে রামানজানি বিক্ষোভকারীদের এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অমান্য করে আগামী সপ্তাহের গণমিছিলে দলে দলে যোগ দেওয়ার জন্য জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান যে সরকারের এই নির্দেশনাটি কোনো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রকৃত উপায় নয়, বরং এটি বিরোধীদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ করার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। বিরোধী দলগুলোর এই তীব্র রাজনৈতিক অভিযোগ ও সমালোচনার বিপরীতে কঙ্গোর বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি। এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিল সি-৬৪ নামের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোট, যারা মূলত দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চিসেকেদির দুই মেয়াদের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার সম্ভাব্য আইনি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে।

রাজধানী কিনশাসায় এখন পর্যন্ত কোনো স্থানীয় সংক্রমণ নিশ্চিত না হলেও সম্প্রতি ফ্রান্সের একজন চিকিৎসক এই শহরের ওপর দিয়েই নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন যার শরীরে পরবর্তীতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। ওই চিকিৎসক কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্রে দীর্ঘ দিন ধরে মাঠপর্যায়ে সেবা দিচ্ছিলেন। কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ঘটনার পরদিনই কঙ্গো সরকার আক্রান্ত অঞ্চল থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াতকারী সমস্ত যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইনের কঠোর নিয়ম জারি করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব মূলত ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু এই তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং সেখানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সব ধরনের গণসমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।

কঙ্গোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জ্যাকমেইন শাবানি এই বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেন যে আক্রান্ত প্রদেশগুলোতে এক দিনে নতুন করে আরও ৪৭ জন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৭৪ জনে এবং এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬০ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ইতুরি প্রদেশটি সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট সংক্রমণের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি কেসের জন্য দায়ী। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ এবং আন্দোলনের মুখে সরকার কীভাবে কার্যকরভাবে জনস্বাস্থ্য বিধি প্রয়োগ করবে, কারণ দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীরা এই স্বাস্থ্য নির্দেশিকাকে সরাসরি অমান্য করার ঘোষণা দিয়েছেন।

banner
Link copied!