গণতান্ত্রিক কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাঝে একটি সুস্থতার ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গত শুক্রবার ড্যানিয়েল কিটামবালা নামে এক রোগী ইবোলা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন, যা স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে আনন্দের মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে। বিবিসির তথ্যমতে, ৪৯ বছর বয়সী এই কৃষক তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ইবোলা মুক্ত হন।
ইতুরি প্রদেশে ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতির সংক্রমণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ভাইরাসটি শনাক্তের পর থেকে গত এক মাসে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার অনেক আগে থেকেই এটি গোপনে ছড়িয়ে পড়ছিল বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড্যানিয়েল কিটামবালা বিবিসিকে বলেছেন, রোগটি অত্যন্ত ভয়াবহ। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সুস্থ হয়েছেন। শুরুতে তিনি স্থানীয় প্রথাগত চিকিৎসায় বিশ্বাসী ছিলেন, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি অন্যদেরও লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কুসংস্কার। অনেকে ইবোলাকে অভিশাপ বা কবরের অভিশাপ হিসেবে গণ্য করেন, যার ফলে তারা হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়েন। তবে ড্যানিয়েল কিটামবালার মতো রোগীদের সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা এই কুসংস্কার ভাঙতে সহায়তা করছে।
মংবওয়ালো হাসপাতালের মেডিকেল পরিচালক ডাঃ রিচার্ড লুকোডু জানিয়েছেন, একজন রোগী সুস্থ হয়ে ফেরায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মাঝে সচেতনতা বাড়ছে। তারা ইবোলা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে চিকিৎসা কেন্দ্রে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়লে এবং রোগীরা শুরুতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে মৃত্যুর হার অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রশাসন এখন পর্যন্ত ভাইরাসের উৎস এবং বিস্তার রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। ইবোলা সংক্রমণ রোধে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান, তবে কিটামবালার সুস্থতা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।
