মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সংঘাত ও উত্তেজনার কারণে কার্যত বন্ধ ছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল। ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে অনেক জাহাজ এখন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালী ত্যাগ করছে এবং তাদের নতুন নির্ধারিত পথটি নিরাপদ।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করছে, তবে সমুদ্র নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জলপথটিতে মাইন বা বিস্ফোরক দূর করার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, পুরো এলাকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে অন্তত চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে। এই সময়সীমার আগে অনেক বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শিপিং কোম্পানি তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত থাকতে পারে। তবে কিছু কোম্পানি ঝুঁকি নিয়ে আগে থেকেই যাত্রা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অপেক্ষায় প্রায় পাঁচশ জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রায় বিশ হাজার নাবিক ও কর্মী বর্তমানে আটকা পড়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প ফ্রান্সের জি-সেভেন সম্মেলনে মাইন অপসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
শান্তি চুক্তির মূল শর্তাবলি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হলেও এটি স্পষ্ট যে উভয় দেশই সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে একমত হয়েছে। তবে এই চুক্তির পরবর্তী ধাপ এবং জলপথটির ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স সিএনবিসিকে জানিয়েছেন যে তিনি আশা করছেন দীর্ঘমেয়াদে এই জলপথটি ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের টোল বা মাসুল দিতে হবে না। এই বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।
জেডি ভেন্সের বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ভিন্ন সুর প্রকাশ করেছেন। তিনি সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরান ফি বা মাসুল আদায় করতে পারে। বাঘাই বলেছেন যে তাদের লক্ষ্য হলো এই জলপথটি নিরাপদ রাখা, তবে অন্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তাদের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। দুই দেশের ভিন্নমুখী অবস্থানের কারণে এই বিষয়টি আগামী দিনের আলোচনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
