লেবানন জুড়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অস্পষ্ট অবস্থান এবং অতীতের সংঘাতের অভিজ্ঞতায় জনমনে গভীর সংশয় রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি জানিয়েছেন যে এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, যা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার তথ্যমতে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩,৭৮৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১১,৬৯৯ জন। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ অঞ্চল, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর এবং বেকা উপত্যকা থেকে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অনেক গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত দুই বছরে লেবাননে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ দ্বিতীয়বারের মতো তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়রা বাড়ি ফেরার আকুতি জানালেও লেবাননের সেনাবাহিনী সতর্কবার্তা দিয়েছে যে সীমান্ত এলাকাগুলোতে এখনই না যাওয়াই নিরাপদ।
৫৩ বছর বয়সী আলি সালেহ দক্ষিণ লেবাননের জওয়াইয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত মার্চ থেকে বৈরুতের একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তিনি জানিয়েছেন যে বাড়ি ফেরার মতো অবস্থা তার নেই, কারণ তার বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তার মতো অনেকেই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু ব্যক্তিগত বাড়িই নয়, পুরো অঞ্চল জুড়ে অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে এই সমঝোতা লেবাননে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত করবে। পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব এবং মিসরসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে নাবিহ বেরি বলেছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ ও লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই চুক্তি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ে এই যুদ্ধবিরতি কতটুকু বাস্তবায়ন হয় এবং ইসরায়েল কতটা নমনীয়তা প্রদর্শন করে।
