সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ: আক্রান্ত ৭৮২, মৃত্যু ১৮১

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ: আক্রান্ত ৭৮২, মৃত্যু ১৮১

ছবি : সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮২ জনে পৌঁছেছে এবং এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে ৭২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে।

এই প্রাদুর্ভাবটি বান্দিবুগিও নামক একটি বিরল ধরণ থেকে ছড়াচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সাধারণত ইবোলার অন্যান্য ধরনের জন্য অনুমোদিত টিকা থাকলেও এই নির্দিষ্ট ধরনটির জন্য এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। ফলে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন সুস্থ হয়েছেন।

ইতুরি প্রদেশ বর্তমানে এই সংক্রমণের মূল কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এখানকার মোট আক্রান্তের প্রায় ৯৫ শতাংশ কেস নর্থ কিভু ও সাউথ কিভু প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভাইরাসটি পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার সক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে ৯৫ শতাংশ সাফল্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেখানে বর্তমানে তা ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত ও মানবিক সংকট স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কাজকে কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে মাইন বা খনি অঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের অবাধ চলাচলের ফলে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক রোগী আইসোলেশন সেন্টার থেকে পালিয়ে যাওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হিউম্যানিটারিয়ান সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ জানিয়েছে যে নজরদারি ও পরীক্ষার অভাবের কারণে এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি এখনো অজানা রয়ে গেছে।

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক জ্যঁ কাসেয়া জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে সংক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত দেশগুলোর পাশে থাকতে হবে। এমএসএফ জানিয়েছে যে এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রায় ২১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘাটতি রয়েছে যা জরুরি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না।

বর্তমানে এই অঞ্চলটি মাইন সমৃদ্ধ হওয়ায় খনি শ্রমিকরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন যা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট তৈরি করছে। মোংবওয়ালো স্বাস্থ্য অঞ্চল থেকে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কঙ্গোর সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। সামগ্রিকভাবে এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

banner
Link copied!