মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কঙ্গোয় ইবোলা: মৃতের সংখ্যা ১০১, স্বাস্থ্যসেবায় বাধা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৯, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

কঙ্গোয় ইবোলা: মৃতের সংখ্যা ১০১, স্বাস্থ্যসেবায় বাধা

ছবি : সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৫ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১০ জন মারা গেছেন। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

দেশটির সরকার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫৫-তে দাঁড়িয়েছে। যদিও মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে সংক্রমণের বিষয়টি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিলম্বের কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে এবং ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব মূলত ইজুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভুর মতো তিনটি প্রদেশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতায় জর্জরিত। স্থানীয় সরকার জানিয়েছে যে, ইজুরির ১৭টি স্বাস্থ্য অঞ্চল, উত্তর কিভুর সাতটি এবং দক্ষিণ কিভুর একটি অঞ্চলে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ এই অঞ্চলগুলোতে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় অবস্থান রয়েছে।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে ইবোলা মোকাবিলায় গৃহীত মানবিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গবেষকদের তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট প্রদেশগুলোতে প্রায় ১২০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। জাতিগত অস্থিরতা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দুর্নীতি এবং খনিজ সম্পদের দখল নিয়ে সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। এর ফলে চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানো এবং আক্রান্তদের আইসোলেশনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদিও রাজধানী বুনিয়া বর্তমানে অপেক্ষাকৃত শান্ত, তবুও সীমান্তবর্তী স্বাস্থ্য অঞ্চলগুলোতে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইবোলার এই ধরণটি বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন হিসেবে চিহ্নিত। সাধারণত এই ধরনের সংক্রমণ অত্যন্ত সংক্রামক এবং এর মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়। তবে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা যথাযথভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। মানবিক বিপর্যয় রোধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ করিডোর তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!