সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

তিন মাসের যুদ্ধের অবসান: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতা পাকিস্তানের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

তিন মাসের যুদ্ধের অবসান: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতা পাকিস্তানের

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধের অবসানে এই চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জাতীয় সংসদে এই অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং এটি শান্তি ও সংলাপের চূড়ান্ত সাফল্য।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই পুরো শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার দীর্ঘ এবং কঠিন সময়ে যখন মনে হচ্ছিল শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে, তখন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নিরলসভাবে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, আসিম মুনির দিনরাত পরিশ্রম করে যুদ্ধের দাবানল নেভানোর জন্য কাজ করেছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবিচল থেকেছেন। তার এই প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই দিনটি বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে।

চুক্তির মূল অংশ হিসেবে উভয় দেশ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটবে এবং হরমুজ প্রণালীসহ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের পথ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এই চুক্তির মাধ্যমে স্থিতিশীল হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার বক্তব্যে জানান, পাকিস্তানের জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত। তিনি বলেন, শান্তি স্থাপনে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত হয়েছে। আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে উভয় দেশের নেতৃত্বের ধৈর্য ও বিচক্ষণতা এই সাফল্যের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পাকিস্তান আয়োজক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে, যা দেশটির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন।

এই শান্তি চুক্তি কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন আশার আলো। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষ যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল, তার সমাপ্তি ঘটবে এই চুক্তির মাধ্যমে। এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ১৯ জুনের দিকে, যখন এই ঐতিহাসিক নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এই অগ্রযাত্রা মুসলিম বিশ্বসহ পুরো বিশ্বের জন্য এক স্বস্তির সংবাদ।

banner
Link copied!