যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এএফপি এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে বেশ কয়েকটি শহরের আবাসিক ভবন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বাবেল-থানিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং জামেল আমেল হাসপাতালের কাছে অবস্থিত ব্যাংক অউদি এলাকাতেও বোমা বর্ষণ করা হয়েছে।
হাব্বুশ এলাকায় চালানো হামলায় একজন চিকিৎসকসহ অন্তত দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। দাউয়ের গ্রামে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় একজন তরুণ নিহত এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া কালাউইয়া টাওয়ার গ্রামে একটি হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কাফার রিমান গ্রামে ড্রোনের হামলায় গাড়িতে বসা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের নয়টি শহর ও গ্রামে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বা স্থান ত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ঘোষণা করেছিল। গত ১৬ এপ্রিল একই ধরনের আরেকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় এটি স্বাক্ষরিত হলো। তবে আগের চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাসে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতিও বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নতুন চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। হেজবোল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমাগত গোলাগুলির ঘটনা প্রমাণ করছে যে, কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই চুক্তির সফল বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টাগুলো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
লেবাননের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং আশ্রয়স্থলের অভাব মানুষের দুর্ভোগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ফলে হাসপাতালগুলো রোগীদের সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ এবং টেকসই যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এখন পর্যন্ত হেজবোল্লাহ এবং ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে আস্থার যে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তাতে এই নতুন চুক্তিও আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা রয়েই গেছে।
