রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্রিস্টোফার নোলানের দি ওডিসি চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৮, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

ক্রিস্টোফার নোলানের দি ওডিসি চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের বহু প্রতীক্ষিত নতুন চলচ্চিত্র দি ওডিসি কাস্টিং এবং ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে বলে রোববার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে। প্রায় ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি আগামী ১৭ই জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। হোমারের বিখ্যাত মহাকাব্য অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নোলানের পূর্ববর্তী সফল সিনেমা ওপেনহেইমারের পর এই মহাকাব্যিক রূপান্তরটি সম্পূর্ণ বিতর্কহীন হবে বলে আশা করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

এই চলচ্চিত্রে ট্রয়ের হেলেন চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ अभिनेत्री লুপিটা ইয়ংওকে নির্বাচন করা নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হোমারের মূল কবিতায় হেলেনকে শ্বেতশুভ্র বাহুর অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হলেও নোলান এই চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ অস্কারজয়ী অভিনেত্রীকে যুক্ত করায় ইন্টারনেটে বর্ণবাদী আক্রমণের ঝড় উঠেছে। বিখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই কাস্টিংয়ের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে নোলান কেবল অস্কার পুরস্কার পাওয়ার লোভে এই ধরনের কাস্টিং পছন্দ করেছেন। তবে অভিনেত্রী লুপিটা এই সমালোচকদের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তিনি এই সিনেমায় হেলেন ও তার বোন ক্লাইটেমনেস্ট্রা নামের দুটি জমজ চরিত্রে দ্বৈত অভিনয় করছেন বলে টাইম ম্যাগাজিন নিশ্চিত করেছে।

কাস্টিংয়ের এই বিতর্কের পাশাপাশি গ্রিসের গণমাধ্যম এবং চলচ্চিত্র প্রেমীরা এই সিনেমায় কোনো গ্রীক অভিনেতা না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হোমারের এই অমর সৃষ্টিকে গ্রীক সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও হলিউডের এই বিশাল চলচ্চিত্রে একজন গ্রীক বংশোদ্ভূত অভিনেতাকেও প্রধান বা পার্শ্ব চরিত্রে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এথেন্সের চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, হলিউড সবসময় গ্রীকদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে কিন্তু আধুনিক গ্রীকদের সেই গল্পের অংশীদার করতে অনীহা প্রকাশ করে। এই চলচ্চিত্রে ম্যাট ডেমন ওডিসিয়াস চরিত্রে, টম হল্যান্ড টেলেমেকাস চরিত্রে এবং অ্যান হ্যাথাওয়ে পেনেলোপ চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার সব কটি চরিত্রই আমেরিকান তারকাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই তীব্র কাস্টিং বিতর্ক এবং দর্শকদের আগ্রহের তারতম্য আগামী দিনে চলচ্চিত্রটির বক্স অফিস সাফল্যে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চলচ্চিত্রটির সুরকার লুদভিগ গোরানসন এই সিনেমার জন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী অর্কেস্ট্রা ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, কারণ ওই প্রাচীন যুগে এই ধরনের কোনো বাদ্যযন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে ইউনিভার্সাল পিকচার্স এই সিনেমার প্রচারণায় আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বাদ দিয়ে কেবল মূল ধারার চলচ্চিত্র সমালোচকদের জন্য প্রাথমিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নোলান নিজে এই চলচ্চিত্রে মাইসিনীয় যুগের কালো ব্রোঞ্জের বর্ম ব্যবহার করে প্রত্নতাত্ত্বিক নির্ভুলতা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও প্রতীকী কাস্টিংয়ের বৈপরীত্য দর্শকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এই চলচ্চিত্রের ট্রেইলারে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাল্পনিক উপাদান যেমন সাইক্লোপস পলিফেমাস এবং বর্ম পরিহিত দানবদের সাথে যুদ্ধের দৃশ্য দেখানো হয়েছে যা দর্শকদের মাঝে কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রাচীন গ্রীক সংস্কৃতির এই নোস্তোস বা ঘরে ফেরার গল্পটি হলিউডের আধুনিক রিপ্রেজেন্টেশন বা প্রতিনিধিত্বের রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে এক বড় বিতর্কের কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। তবে তীব্র সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ক্রিস্টোফার নোলানের পূর্ববর্তী ট্র্যাক রেকর্ড এবং আইম্যাক্স ৭০ মিলিমিটার ক্যামেরায় ধারণকৃত এই বিশাল ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দর্শকদের সিনেমা হলে টানতে বাধ্য করবে। সমালোচকদের এই তীব্র লড়াই শেষ পর্যন্ত সিনেমার প্রচারণায় বাড়তি সুবিধা দেবে নাকি এর বাণিজ্যিক বিপর্যয় ডেকে আনবে তা কেবল মুক্তির পরেই জানা যাবে।

banner
Link copied!