বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ল্যামিন ইয়ামাল: স্পেনের বিস্ময়বালক, বিশ্বকাপের ফাইনালে লক্ষ্য স্থির

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ল্যামিন ইয়ামাল: স্পেনের বিস্ময়বালক, বিশ্বকাপের ফাইনালে লক্ষ্য স্থির

ছবি : সংগৃহীত

স্পেনের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে তিনি দেখিয়েছেন কেন তাকে ভবিষ্যতের তারকা বলা হচ্ছে। গত সোমবার ছিল তার ১৯তম জন্মদিন। জন্মদিনের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তার কাছে সেরা উপহার হবে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। বুধবার আটলান্টার মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এখন পুরো বিশ্বের নজর তার দিকে, কারণ তিনি এখন নিজের দ্বিতীয় বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার অপেক্ষায় আছেন।

ইয়ামালের জন্ম বার্সেলোনার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাত এলাকায়। তার বাবা মুনিদ নাসরাউই মরক্কোর বংশোদ্ভূত এবং মা শিলা ইবানা বিষুবীয় গিনির বাসিন্দা। বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমির ফসল এই তরুণ দ্রুতই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জয়ের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন তিনি। তার খেলার ধরন ও ড্রিবলিং দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে লিওনেল মেসি কিংবা নেইমারের সঙ্গে তুলনীয়। তবে ১৯ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একজন মুসলিম হিসেবেও ইয়ামাল নিজের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। গোল করার পর মাঠে সিজদা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটান। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশেও তিনি পিছিয়ে নেই। বার্সেলোনার ট্রফি প্যারেডের সময় তাকে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা গিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। খেলাধুলার বাইরে তার এই মানবিক গুণাবলি তাকে সাধারণ ভক্তদের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

দুই বছর আগে ইউরো ২০২৪ টুর্নামেন্টে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। সেবার তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন এবং সর্বোচ্চ চারটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত গোলটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। উয়েফার কারিগরি পর্যবেক্ষকরা তাকে টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের মর্যাদা দিয়েছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে শুরুর দিকে চোটের কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও নকআউট পর্বে তিনি নিজের চেনা ছন্দে ফিরে এসেছেন।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তিনি একটি গোল করলেও সতীর্থদের গোল করানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অপরিসীম। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পেনাল্টি আদায় করে নেওয়া তারই দক্ষতা। তিনি এখন পেলের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা তৃতীয় কম বয়সী খেলোয়াড় হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইয়ামাল মাঠে থাকলে স্পেন এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি। তিনি যখনই শুরুর একাদশে থেকেছেন, স্পেন প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়ী হতে পারলে তিনি ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের এক বিরল ডাবল শিরোপা অর্জন করবেন। ফুটবল বিশ্বের নতুন এই সেনসেশন রবিবার ফাইনালে তার শৈশবের নায়ক মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারেন। তার অদম্য গতি ও সাহসিকতা স্পেনের সমর্থকদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

banner
Link copied!