বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রাম্পের নির্দেশ: আইসিই-র ট্রাফিক স্টপ চলবেই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

ট্রাম্পের নির্দেশ: আইসিই-র ট্রাফিক স্টপ চলবেই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই-র ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের একদিন পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টো নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প অভিবাসন কর্মকর্তাদের এই অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। গত সপ্তাহে টেক্সাস ও মেইন অঙ্গরাজ্যে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার পর আইসিই কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাময়িকভাবে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি বা ট্রাফিক স্টপ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন নির্দেশনার ফলে সংস্থাটির কার্যক্রম আবারও আগের মতো চলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, অপরাধীদের ধরতে আইসিই-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার হলো ট্রাফিক স্টপ। এই পদ্ধতি থেকে সরে আসা মানে অপরাধীদের সুবিধা করে দেওয়া। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তাদের শক্তিশালী, কঠোর এবং বুদ্ধিদীপ্ত হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা দায়িত্ব পালনের সময় ন্যায়পরায়ণ ও বিবেচক থাকেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প তার প্রশাসন পরিচালিত ব্যাপক নির্বাসন অভিযানের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন।

এর আগে মঙ্গলবার আইসিই-র সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হম্যান জানিয়েছিলেন যে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটে যাওয়া দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর তারা গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। সেই পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। হম্যান এটিকে কোনো নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং কর্মকর্তাদের জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের বুধবারের বার্তার পর সংস্থাটির ভেতরে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি মেইন অঙ্গরাজ্যের বিডফোর্ড শহরে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে কলম্বিয়ার এক নাগরিক নিহত হন। এর ঠিক ছয় দিন আগে হিউস্টনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় মেক্সিকোর এক নাগরিক নিহত হন। এই মৃত্যুগুলো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সংস্থাটির কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সসহ একাধিক আইনপ্রণেতা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের গাড়ি তল্লাশি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অবস্থান তার অভিবাসন নীতির কঠোরতাকে ফুটিয়ে তোলে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক আকারে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন করার যে প্রচারণা তিনি শুরু করেছিলেন, ট্রাফিক স্টপ তার অন্যতম প্রধান অংশ। তবে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে, এই পদ্ধতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই নতুন নির্দেশের পর আইসিই-র মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কীভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে এর বিপরীতে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না।

banner
Link copied!