বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

কর্মসংস্থান সংকট: সনদ নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

কর্মসংস্থান সংকট: সনদ নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা

বর্তমানে দেশের কর্মসংস্থান বাজারের সবচেয়ে বড় সংকট হলো শিক্ষাগত সনদ আর বাস্তব দক্ষতার মধ্যে ব্যাপক ফারাক। একজন তরুণ স্নাতকোত্তর পাস করেও যখন কম্পিউটারে সাধারণ দাপ্তরিক কাজ করতে হিমশিম খান, তখন বুঝতে হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় কোনো ত্রুটি রয়ে গেছে। তরুণদের একটি বড় অংশ ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত কেবল সরকারি চাকরির আশায় সময় নষ্ট করছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে যদি তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠত, তবে চাকরির পেছনে না ছুটে বরং চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারত।

আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তির বিকাশের চেয়ে মুখস্থ বিদ্যার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। শৈশবে প্রশ্ন করার যে স্বাভাবিক প্রবণতা শিশুদের মধ্যে থাকে, তা আমাদের শ্রেণিকক্ষে অনেকটা নিরুৎসাহিত করা হয়। শূন্য থেকে সাত বছর বয়সী শিশুদের মস্তিষ্ক যেকোনো তথ্য দ্রুত গ্রহণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী থাকে। কিন্তু এই সময়ে তাদের জীবনের ব্যবহারিক পাঠ না দিয়ে কেবল খাতাভরা উত্তর মুখস্থ করানো হচ্ছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরও কর্মক্ষেত্রে তারা নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

অনেকে আবার বেকারত্ব ঘোচাতে কোনো রকম ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াই ছোটখাটো ব্যবসায় নেমে পড়ছে। ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করে, কিন্তু বিক্রয় বৃদ্ধির কোনো কার্যকর কৌশল না থাকায় প্রথম দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই আশি শতাংশ নতুন ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক বিপণন বা মার্কেটিং কৌশল বুঝতে হবে। আমাদের দেশে একসময় সাবান শিল্পে অ্যারোমেটিক ব্র্যান্ডটি বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও উপযুক্ত বিপণন কৌশলের অভাবে তা বাজার হারিয়েছে। অন্যদিকে অলটাইম বেকারি ব্র্যান্ডটি সঠিক বিপণন ও গ্রাহক সেবার মাধ্যমে বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

বড় কোম্পানিগুলো এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। তারা কেবল সেই প্রার্থীদেরই খুঁজছে যারা তাদের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন জনবল কমানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের কথাই ধরা যাক। কয়েকশ সাধারণ কর্মীর বদলে তারা অল্প কয়েকজন সেরা প্রকৌশলী দিয়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর সেবা দিচ্ছে। এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ মানের পাঁচজন কর্মীর চেয়ে একজন দক্ষ কর্মীর মূল্য অনেক বেশি।

বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য মিতু একাডেমি একটি নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তারা খুব দ্রুত এক টাকার স্কুল কর্মসূচি চালু করবে। এর লক্ষ্য হলো, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন বিজ্ঞান চর্চা থেকে পিছিয়ে না পড়ে। এই ধরনের বাস্তবমুখী শিক্ষা কার্যক্রম দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকা রাখবে। সনদসর্বস্ব শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনই এখন আমাদের তরুণদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

banner
Link copied!