বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

আইসিই হেফাজতে মৃত্যু: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর মামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৪, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

আইসিই হেফাজতে মৃত্যু: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর মামলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী আটক কেন্দ্রে নিজেদের নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় মেক্সিকো সেদেশের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটরদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অভিযানের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মেক্সিকো সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে গত বছরের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মার্কিন অভিবাসন অভিযান বা আটক কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। মেক্সিকোর এই আইনি পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মেক্সিকো সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন মার্কিন আটক কেন্দ্রে আইনি নোটিশ বা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশিকা পাঠাতে শুরু করেছে যেখানে মেক্সিকান নাগরিকরা মারা গেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডেলান্তো আটক কেন্দ্রে প্রথম এই ধরণের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে যেখানে অন্তত ৪ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মেক্সিকোর পক্ষ থেকে এই চিঠিতে বন্দিদের চিকিৎসা সেবায় বিলম্ব এবং আটক নীতিমালার অবসান ঘটানোর দাবি জানানো হয়েছে যা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও কারাগারের মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম এর আগে ঘোষণা করেছিলেন যে তার দেশ মার্কিন প্রসিকিউটরদের কাছে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলোতে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনার অনুরোধ জানাবে। মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আটক কেন্দ্রগুলোর অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের নাগরিকরা অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

মেক্সিকোর এই কূটনৈতিক এবং আইনি পদক্ষেপের ফলে ওয়াশিংটন এবং মেক্সিকো সিটির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরণের নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাসন অভিযানের কারণে মেক্সিকো সীমান্তে আটকে থাকা হাজার হাজার অভিবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আটক কেন্দ্রগুলোর ভেতরে থাকা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং যথাযথ আইনি সহায়তার অভাবকে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সমস্ত কনস্যুলেটকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটক কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন বাড়ানোর এবং বন্দিদের জীবনযাত্রার মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের নিয়ন্ত্রাধীন কেন্দ্রগুলোতে বন্দিদের মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আদালতগুলো মেক্সিকো সরকারের এই فهرস্ত ফৌজদারি অভিযোগের আবেদনগুলোকে কতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই এর অভিযানের মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা প্রতিবেশী দেশগুলোর নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা তাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের প্রসিকিউটরদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশের বাইরে মেক্সিকান নাগরিকদের মর্যাদা ও মানবাধিকার রক্ষা করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

banner
Link copied!