মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি বৈঠক শুরু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি বৈঠক শুরু

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ইতালির রাজধানী রোমে একটি বিশেষ বৈঠক শুরু হয়েছে বলে রয়টার্স ও আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি একটি রূপরেখা চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ইতালির রোমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুই দেশের প্রতিনিধি দল দুই দিনব্যাপী এই আলোচনায় অংশ নেয়। তবে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে এই আলোচনা থেকে খুব দ্রুত কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির আশা করছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

লেবাননের কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে আলোচনা প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে এবং নিজ নিজ সরকারের সাথে দ্রুত পরামর্শ করার সুবিধার জন্য এই বৈঠকটি রোমে স্থানান্তর করা হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তাদের প্রতিনিধি দলকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যেন ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। লেবানন সরকার মনে করে যে কোনো ধরনের পরবর্তী আলোচনার আগে এই সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি সোমবার ব্রাসেলসে একটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠক শেষে জানান যে লেবাননে একটি প্রকৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ইতালি এই আলোচনার আয়োজন করতে সম্মত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই আলোচনার মাধ্যমে তাদের রাজধানী রোম শান্তির একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে। এর আগে গত জুন মাসের ২৬ তারিখে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই আলোচনা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হবে কারণ ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যেই এই রূপরেখা চুক্তি এবং তাদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে হিজবুল্লাহ সশস্ত্র থাকা পর্যন্ত তাদের সৈন্যরা দক্ষিণ লেবানন থেকে সরবে না। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে রোমের এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

banner
Link copied!