সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

তামিলনাড়ুর গরু জবাই নীতি: হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

তামিলনাড়ুর গরু জবাই নীতি: হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ অভিনেতা থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর ফলে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়সহ রাজ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত উৎসবে গরু জবাইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আইনি জটিলতা আপাতত কাটল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের একটি বেঞ্চ রাজ্যজুড়ে ঈদুল আজহা বা অন্য যেকোনো দিন গরু কিংবা বাছুর জবাই করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। হাইকোর্টের সেই রায়ে বলা হয়েছিল, রাজ্যের জনস্বার্থে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আপিল আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, হাইকোর্টের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা রাজ্যের বিদ্যমান আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।

সোমবার ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই বিষয়ে শুনানির সময় হাইকোর্টের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, হাইকোর্টের ওই নির্দেশে একটি বড় ধরনের সংশোধন কিংবা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, হাইকোর্টের এই নিষেধাজ্ঞা তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮-এর মূল ধারার পরিপন্থী। ওই আইন অনুযায়ী, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ বা প্রজননে অক্ষম গরু নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও শংসাপত্র নিয়ে কসাইখানায় জবাই করার বৈধ নিয়ম রয়েছে। হাইকোর্টের আদেশটি এই দীর্ঘদিনের আইনি অধিকারকে সরাসরি খর্ব করেছিল।

রাজ্য সরকার তাদের আবেদনে আরও দাবি করেছে, হাইকোর্ট মূলত জনসমক্ষে বা অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই বন্ধের একটি আবেদনের শুনানি করছিল। কিন্তু সেই শুনানির প্রেক্ষাপটে তারা নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে পুরো রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসে, যা সরাসরি রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপের শামিল। রাজ্য প্রশাসন মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল নির্বাচিত আইনসভার ওপর ন্যস্ত, বিচার বিভাগ সেখানে ঢালাও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘু মুসলিম এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত উৎসবে গরু জবাই নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার একটি বড় আইনি স্বস্তি মিলেছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে, তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই স্থগিতাদেশ রাজ্য প্রশাসনকে তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তারা রাজ্যের স্বকীয়তা ও আইনি কাঠামো রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার এই রাউন্ডে রাজ্য সরকারের এই জয় ভারতের ফেডারেল কাঠামোয় রাজ্য ও কেন্দ্র বা বিচার বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

banner
Link copied!