নিউ জিল্যান্ডের প্রখ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। জুরাসিক পার্ক এবং দ্য পিয়ানো’র মতো বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। সিডনিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার অভিনেতার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মৃত্যুটি ছিল আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত।
গত দুই বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৩ সালে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা নামক একটি বিরল ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে পরিবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সময় তিনি ক্যান্সারমুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তার মৃত্যুতে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যার অভিনয় দক্ষতা আর্ট ফিল্ম থেকে শুরু করে বিশাল বাজেটের ব্লকবাস্টার সিনেমা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
স্যাম নিলকে বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম বহুমুখী প্রতিভা হিসেবে গণ্য করা হয়। সত্তরের দশকের শেষভাগে অস্ট্রেলীয় চলচ্চিত্রের যে নবজাগরণ শুরু হয়েছিল, তাতে তার অবদান অনস্বীকার্য। জুরাসিক পার্ক সিনেমায় ডাইনোসরের হাত থেকে বাঁচার দৃশ্য থেকে শুরু করে দ্য পিয়ানো সিনেমায় হোলি হান্টারের স্বামীর চরিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে আছে। তিনি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের অভিনয়ের জাদু ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তার কর্মজীবনে অভিনয়ের তালিকায় রয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজ। এর মধ্যে রয়েছে পিকি ব্লাইন্ডারস, দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর এবং ওমেন থ্রি: দ্য ফাইনাল কনফ্লিক্ট। তিনি কেবল বড় পর্দার জন্যই কাজ করেননি, টেলিভিশন নাটকেও তার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। সহকর্মী ও সমালোচকদের মতে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র ও বিনয়ী একজন মানুষ, যিনি খ্যাতির মোহে নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি।
নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন তার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি স্যাম নিলকে একজন মহান শিল্পী হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন এক সময়ে তিনি চলচ্চিত্র জগতে এসেছিলেন যখন নিউ জিল্যান্ডের নিজস্ব চলচ্চিত্র শিল্প বলতে তেমন কিছু ছিল না। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিউ জিল্যান্ডের গল্পগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন এবং দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, স্যাম নিল তার প্রতিটি পারফরম্যান্সে যে গাম্ভীর্য ও সততা ফুটিয়ে তুলতেন, তা তার অসুস্থতার সময়ও দেখা গেছে। তিনি তার অসুস্থতার বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন। বিনয়ী ও চিন্তাশীল এই মানুষটিকে চলচ্চিত্র জগত অনেক দিন মনে রাখবে। স্যাম নিল ১৯৪৭ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন, তবে শিশু বয়সেই তিনি পরিবারের সাথে নিউ জিল্যান্ডে পাড়ি জমান।
তার জন্মগত নাম ছিল নাইজেল জন ডারমোট, কিন্তু তিনি স্যাম নামেই পরিচিত ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিউ জিল্যান্ডের সেন্ট্রাল ওটাগো অঞ্চলে দ্রাক্ষাক্ষেত্র বা আঙুর বাগানের মালিক ও পরিচর্যাকারী ছিলেন। অভিনয় জীবনের বাইরে এই জীবন তিনি বেশ উপভোগ করতেন। তার মৃত্যুতে বিনোদন জগত একজন অভিভাবক ও প্রতিভাবান শিল্পীকে হারাল, যার শূন্যতা দীর্ঘ দিন পূরণ হওয়ার নয়।
