মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কিউবার পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দেশটির হাভানা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিউবার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যেই এই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিউবার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোম্পানি দুটির নাম জিইএমএআর এবং জিইসিওএমইএক্স। নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, এই রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যেসব বিদেশি কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের বিদ্যমান চুক্তিগুলো গুটিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চুক্তি বাতিল না করলে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশের আওতায় কিউবার সরকার বা অর্থনীতিকে সমর্থনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে তা জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিউবার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়টিও সেই আদেশের অংশ ছিল। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কিউবার ওপর মার্কিন চাপের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।
কিউবা বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটিতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেশটির পর্যটন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের দাবি, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কিউবা সরকার দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছে এবং একে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পর্যটন খাত কিউবার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে থেকেই কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কঠোরতা বিদ্যমান ছিল, যার ফলে দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন করে এই বিধিনিষেধ আরোপের ফলে কিউবার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই দেশের এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। মার্কিন প্রশাসন কিউবার সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক অবরোধের নীতি অনুসরণ করছে। বিপরীতে কিউবা সরকার তাদের নিজস্ব নীতিতে অবিচল থাকার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে করে কোনো ধরনের সামরিক বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়।
