ইউরোপীয় কমিশন গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এক বিলিয়ন ডলারের একটি ত্রাণ তহবিল ঘোষণা করেছে। ব্রাসেলসে দাতা দেশগুলোর এক বৈঠকে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই টিম গাজা ইনিশিয়েটিভ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এএফপি এবং রয়টার্স-এর তথ্যমতে, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের ফলে গাজার যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে এই অর্থ সাহায্য দেওয়া হচ্ছে।
এই তহবিল থেকে পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো পুনঃস্থাপনের মতো প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করা হবে। ইউরোপীয় কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার সাধারণ মানুষের জন্য আশা ও স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমধ্যসাগরীয় বিষয়ক কমিশনার দুব্রাভকা সুইকা জানিয়েছেন, প্রায় ৯০ কোটি ইউরো বা এক বিলিয়ন ডলারের এই প্রাথমিক প্যাকেজটি গাজার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে এই সাহায্যের পরিমাণ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠনের জন্য আগামী দশ বছরে প্রায় ৭১ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। সেই তুলনায় এক বিলিয়ন ডলারের এই সহায়তা অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষজ্ঞ এবং মানবিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি যে চরম আকার ধারণ করেছে, তা মোকাবিলায় এই সামান্য পরিমাণ অর্থ পর্যাপ্ত নয়। গাজায় ক্রমাগত মৃত্যুর ঘটনা এবং মানবিক বিপর্যয় মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
এই উদ্যোগে ইউরোপীয় কমিশনের পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন এবং বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশ অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকও এর অংশীদার। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি দেশ বা সংস্থা ঠিক কত অর্থ প্রদান করবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
দুব্রাভকা সুইকা বলেন, দাতা দেশগুলো এখন গাজায় দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী এবং তাদের এই সদিচ্ছা প্রদর্শন করা জরুরি। তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, এই সহায়তা যেন গাজার মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হলে মাঠ পর্যায়ে যথাযথ পরিস্থিতির প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে গাজার বিদ্যুৎ, কৃষি এবং খাদ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সাহায্য কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে গাজায় শান্তি এবং মানবিক সহায়তা চলাচলের সুযোগ সৃষ্টির ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি গাজায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলি হামলার সমাপ্তি ঘটানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কেবল ধ্বংসস্তূপ সরানোর বা সামান্য অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে গাজার মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এক বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়ালেও, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞরা।
