থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও ৭৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সোমবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছুক্ষণ আগে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার রং বিয়ার না লাত ফ্রাও নামক পাবটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর চারিদিকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রথম সাড়াদানকারী দলের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাবটির সদর দরজা দিয়ে বিশাল আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরিয়ে আসছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকাজ শেষ করার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল গণমাধ্যমের সামনে আসেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে ২৭ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পাবটিতে যখন আগুন লাগে, তখন সেখানে একটি ব্যান্ড দল গান বাজাচ্ছিল। সেই দলের সদস্য আথিফাত উইজার্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল এবং মঞ্চের পেছনের বৈদ্যুতিক সার্কিট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমি যখন বের হওয়ার জন্য হামাগুড়ি দিচ্ছিলাম, তখন একটি বিস্ফোরণ হয় এবং আমি মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাই। গরম বাতাসের প্রচণ্ড ঝাপটা আমি অনুভব করছিলাম এবং পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। এটি ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
থাইল্যান্ডের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ২০০৯ সালে ব্যাংককের সান্তিকা ক্লাবে নতুন বছরের উদযাপনের সময় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন মারা গিয়েছিল এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পাবটির বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা অন্য কোনো নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৩২ জনকে সুস্থ হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে। ব্যাংকক নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হলেও পুরো ভবনটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থাইল্যান্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটনসমৃদ্ধ শহর ব্যাংককে এই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় প্রশাসনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্থাপনাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতিই কি এই বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। আপাতত পুরো ঘটনার সঠিক তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে পরবর্তীতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা যায়।
