যুক্তরাজ্যের প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিক অ্যান উইডকম্বের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্তের মোড় ঘুরে গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ডভন এবং কর্নওয়াল পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত চালালেও, সোমবার থেকে এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে জাতীয় সন্ত্রাস দমন পুলিশ ইউনিট। মাত্র এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় পুলিশ দাবি করেছিল যে, উইডকম্বের মৃত্যুতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সন্ত্রাসী তৎপরতার যোগসূত্র নেই। কিন্তু তদন্তের নতুন মোড় সেই দাবিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তকারী দল এমন কিছু নতুন তথ্য ও প্রমাণ হাতে পেয়েছে যার ফলে বিষয়টিকে সাধারণ হত্যাকাণ্ড থেকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ পুরুষকে নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া, প্রস্তুতি নেওয়া এবং উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার একই ব্যক্তিকে খুনের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এখন তাকে কঠোর নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জাতীয় সন্ত্রাস দমন পুলিশ ইউনিটের প্রধান লরেন্স টেলর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তদন্তের মোড় ঘোরানোর মতো যথেষ্ট তথ্য এখন তাদের হাতে রয়েছে। তিনি বলেছেন যে, এই হামলার পেছনে ঠিক কী ধরনের প্রেষণা কাজ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের এই নতুন পদক্ষেপ ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে নিজের বাসভবনে ৭৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অ্যান উইডকম্ব যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং বিতর্কিত একটি নাম। তিনি দীর্ঘ সময় কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য এবং সরকারি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জনসমর্থন বা আদর্শিক কারণে সংস্কার দলে যোগ দেন। তার এই দলত্যাগ সে সময় ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছিল। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলে শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রথম দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র না থাকার কথা বলায় জনমনে স্বস্তি ছিল। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঝুঁকির বিষয়টি ফের সামনে চলে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ২৮ বছর বয়সী এই সন্দেহভাজনের ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে জড়িত কি না বা অন্য কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
ব্রিটিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উইডকম্বের মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যুতে সন্ত্রাস দমন পুলিশের সম্পৃক্ততা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলল। সামনে সাধারণ নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের হামলা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
