লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে প্রথমবার আয়োজিত নারী টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। জয়ের জন্য ৪ ৫৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৮৬ রানে। চার দিনের এই টেস্ট ম্যাচের শেষ দিনে দুপুরের খাবারের বিরতির কিছু সময় আগে ইংল্যান্ডের শেষ উইকেটটি তুলে নেয় ভারত। এই জয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো।
লর্ডসের এই টেস্টটি দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল। পুরুষদের টেস্ট ম্যাচ শুরুর ১৪২ বছর পর এবং নারীদের ক্রিকেটের এই মাঠে প্রথম ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ার বহু বছর পর লর্ডসে নারীদের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হলো। ম্যাচটিতে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা ভারতীয় বোলারদের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি। বল হাতে ভারতের স্নেহ রানা ৪-৪২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। এছাড়া দীপ্তি শর্মাও দুর্দান্ত বোলিং করে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচটিতে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও অনন্য নজির গড়েছেন ভারতের কান্তি গৌড় এবং যস্তিকা ভাটিয়া। কান্তি গৌড় প্রথম ইনিংসে ৫-৩৭ উইকেট নিয়েছিলেন, যা যেকোনো নারী ক্রিকেটারের জন্য লর্ডসে একটি রেকর্ড। উইকেটরক্ষক ব্যাটার যস্তিকা ভাটিয়া প্রথম ইনিংসে ১১৩ রান করেছেন, যা নারী টেস্টে লর্ডসের মাঠে কোনো ক্রিকেটারের প্রথম সেঞ্চুরি। ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ম্যাচ শেষে দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে যস্তিকা ভাটিয়ার ব্যাটিং ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ৩৪১-৭ এ নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
ভারত তাদের এই সফরে লর্ডসের মাঠ থেকে মধুর স্মৃতি নিয়ে ফিরছে। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ভারতের বিদায় হয়েছিল এই লর্ডসের মাঠেই। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টেস্ট ম্যাচে এই জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক একটি ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের কয়েক দিনের মাথায় টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ফরম্যাটে তাদের এই পরাজয় দলের জন্য বড় ধাক্কা।
এই ম্যাচের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ট্যামি বিউমন্ট এবং সাবেক অধিনায়ক হেদার নাইট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন। নিজেদের শেষ ম্যাচে এমন হার দলের জন্য মোটেও সুখকর নয়। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা উইকেটে টিকে থাকার মতো যে ধৈর্য প্রয়োজন ছিল, তা দেখাতে পারেননি। ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর যস্তিকা ভাটিয়ার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন যে, দলে তাকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি যথার্থ ছিল। কান্তি গৌড় ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর জানান, ছোটবেলা থেকে এমন কিছুর স্বপ্ন তিনি কখনো দেখেননি। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নিজের নাম খোদাই করা ছিল তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।
লর্ডসের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার। এমন একজন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে ভারতীয় নারী দলের এই জয় মাঠের পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তুলেছিল। ভারতের এই জয় কেবল একটি টেস্ট জয় নয়, বরং নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য প্রমাণ করে যে তারা এখন বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। লর্ডসের মাঠে অর্জিত এই জয় ভবিষ্যতে ভারতীয় নারী ক্রিকেটের উন্নতির পথকে আরও প্রশস্ত করবে।
