ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ডিজেড স্পেন্স। জুলাই মাসের এগারো তারিখে নরওয়ের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মায়ামি স্টেডিয়ামের মাঠে হাঁটু গেড়ে হাত তুলে প্রার্থনা করেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড়কে এমনভাবে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাতে আগে কখনো দেখা যায়নি। পঁচিশ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের এমন দৃশ্য লাখো মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
আগামী বুধবার আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনাল ঘিরে এখন ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে এরই মধ্যে স্পেন্সের যাত্রা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তিনি জানান, ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। স্পেন্সের মতে, এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আগামী প্রজন্মের তরুণদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তিনি মনে করেন, তার এই অবস্থান অনেকের চেয়ে বড় কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে চোয়ালের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি কার্বন ফাইবারের মাস্ক পরে খেলছেন। ইনজুরির ধকল কাটিয়ে বিশ্বকাপে তার ফিরে আসা এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণে নিজেকে অপরিহার্য করে তোলার বিষয়টি ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো দেশগুলোতে মুসলিম খেলোয়াড়দের খেলার ইতিহাস থাকলেও ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে এমন মাইলফলক অনেকটা দেরিতেই এলো বলে মনে করছেন অনেকে।
লন্ডনের বাসিন্দা জেইন গন্ডাল বলেন, ডিজেড স্পেন্সকে যখন ইংল্যান্ডের জার্সিতে দেখলাম, তখন নিজের মধ্যে এক ধরনের আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছি। তার রক্ষণভাগের লড়াই আমাদের অবাক করেছে। রিয রেহমান নামক এক প্রাক্তন ফুটবলার, যিনি বর্তমানে তরুণ খেলোয়াড়দের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন, স্পেন্সের এই যাত্রার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলার সময় রমজান মাসে তার সাথে রেহমানের পরিচয় হয়। রেহমান জানান, স্পেন্স কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই বিশ্বাস তার চরিত্রকে আরও দৃঢ় করেছে।
স্পেন্সের এই প্রার্থনার দৃশ্যটি যেমন আনন্দের ঢেউ তুলেছে, তেমনি কিছু মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কাও তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে মুসলিম খেলোয়াড়দের নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করার প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। তবে শাবনা জহির বা ড্যানিয়েল বেনেটের মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, স্পেন্সের এই সাহসিকতা ভবিষ্যতে আরও তরুণ মুসলিমকে ফুটবল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার সাহস জোগাবে। এটি কেবল একটি খেলার জয় নয়, বরং বিশ্বাস এবং ধৈর্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সব মিলিয়ে ডিজেড স্পেন্স এখন কেবল একজন ফুটবলার নন, বরং তিনি অনেকের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।
