ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস কয়েক সপ্তাহ আগেও হাসপাতালের বিছানায় অস্ত্রোপচারের টেবিলে শায়িত ছিলেন। মায়ের ৬০তম জন্মদিন উদযাপনের পরিকল্পনা বাতিল করে পেটের তীব্র যন্ত্রণায় তাকে ভর্তি হতে হয়েছিল এডিনবরার রয়্যাল ইনফার্মারিতে। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করান। সেই কঠিন ধাক্কা সামলে মাঠে ফিরেই চেস্টার-লি-স্ট্রিটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক বনে গেছেন।
অস্ত্রোপচারের এক মাসের মাথায় এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক নির্দেশনায় চার সপ্তাহের বিশ্রামের কথা বলা থাকলেও কয়েক দিন আগেই তিনি অনুশীলনে নামেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লায়ন্সের প্রস্তুতি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার পর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলোতেই মাঠে নামেন তিনি। তবে মঙ্গলবার ওয়ানডেতে তিনি যে ঘূর্ণিজাদু দেখিয়েছেন, তা ঘরের মাঠে তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি। ধীরগতির উইকেটে তার ডেলিভারি সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁক নিয়েছে, যা ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো ইংলিশ স্পিনারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।
পেটে অস্ত্রোপচারের পর স্পিন বল করার শারীরিক মোচড় সহ্য করা সহজ ছিল না। জ্যাকস জানান, পেটের পেশির শক্তি ফেরাতে তাকে নেপথ্যে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়েছে।
বল হাতে জাদুকরী পারফরম্যান্সের আগে ব্যাট হাতেও দলের চরম বিপর্যয়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। ৩৯তম ওভারে ২১১ রানে ৭ উইকেট পতনের পর জ্যাকস অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে শেষ উইকেট পতনের আগ পর্যন্ত ইনিংসকে টেনে ২৬৫ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। শুরুতে সাবধানে এগিয়ে প্রথম ৪৩ বলে মাত্র একটি চার হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৬ রানে। দলীয় ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার সেই ধৈর্যই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।
চলতি শ্রীলঙ্কা সিরিজে নিয়মিত সহ-অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে হ্যারি ব্রুকের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে মিডল অর্ডারে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নিজেকে নির্ভরযোগ্য ফিনিশার হিসেবে প্রমাণ করে চলছেন। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে তিনি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ব্রুক জানিয়েছেন, জ্যাকসের নেতৃত্বগুণ পুরো দলকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে সহায়তা করছে।
বছরের শুরুতে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের টেস্ট একাদশেও জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। সামনের শীতে আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলে তার ডাক পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ব্যস্ত সূচির মধ্যেও মায়ের ফেলে আসা জন্মদিনের ভ্রমণটি দ্রুত নতুন করে উদযাপনের আশা রাখছেন এই অলরাউন্ডার।
