ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুই-এক গোলে জয়ের পর ম্যাচ শেষের বিশেষ অনুশীলনে অংশ নিয়ে গুরুতর চোটে পড়েছেন আর্সেনালের দুই তারকা পিয়েরো হিনকাপিয়ে ও মার্তিন জুবিমেন্দি। এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে যারা পুরো ৯০ মিনিট খেলেননি কিংবা সাইডবেঞ্চে ছিলেন, তাদের শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে এই সেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। ২৪ বছর বয়সী ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার হিনকাপিয়ে এবং ২৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জুবিমেন্দি দুজনেই গত গ্রীষ্মের দলবদলে লন্ডনের ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার ফরাসি ক্লাব লিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে দলের এমন পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করেন প্রধান কোচ।
ম্যাচ জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে নতুন চোটের খবরে।
লিডসের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে হিনকাপিয়ে ৮২তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন, অন্যদিকে জুবিমেন্দি পুরো সময়ই ছিলেন সাইডবেঞ্চে। আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্টেতা জানিয়েছেন, মাঠে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া ফুটবলারদের জন্য ম্যাচ শেষে একটি স্বাভাবিক অনুশীলন পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তারা দুজন খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন। চোট কতটা গভীর এবং তারা কতদিনের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন, তা নিশ্চিত হতে উভয়েরই শারীরিক স্ক্যান করানো হবে। আর্টেতা স্পষ্ট করে বলেছেন, দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই নিয়মিত খেলোয়াড়ের চোট পাওয়া কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।
অনুশীলনে খেলোয়াড়দের চোট কীভাবে এড়ানো যেত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কোচ খানিকটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, অনুশীলন বন্ধ রাখলে খেলোয়াড়রা চোট থেকে হয়তো বাঁচবে, কিন্তু ম্যাচ খেলার ছন্দ ও কার্যকারিতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবে। ক্লাবে কাটানো সাত বছরের অভিজ্ঞতায় ম্যাচ শেষের অনুশীলনে এমন ঘটনার মুখোমুখি তিনি কখনো হননি বলেও উল্লেখ করেন। ভবিষ্যৎ আগে থেকে জানার কোনো উপায় থাকলে তিনি খেলোয়াড়দের সরাসরি বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিতেন বলে উল্লেখ করেন এই স্প্যানিশ কোচ।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবারে যেন পুরো স্কোয়াড পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে পারে এবং সোমবারে দলগত প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সেজন্যই ম্যাচ শেষে মাঠে ছোট পরিসরের ম্যাচ খেলানো হয়েছিল। ব্যস্ত সূচির মধ্যে সব খেলোয়াড়ের ফিটনেসের ভারসাম্য এক রাখাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তবে অনুশীলনে পাওয়া আঘাতের মধ্যে জুবিমেন্দির চেয়ে হিনকাপিয়ের গোড়ালির চোট তুলনামূলক বেশি গুরুতর বলে জানা গেছে।
চিকিৎসক দল মাঠে থাকা সত্ত্বেও বদলি গোলরক্ষক ইলান মেলিয়ের পিঠে করে হিনকাপিয়েকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান।
মাঠে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আর্টেতা জানান, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রসঙ্গ এবং এই মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় নয়। চলতি মৌসুমে হিনকাপিয়ে প্রিমিয়ার লিগে বদলি হিসেবে তিন ম্যাচ খেললেও নাপোলির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে শুরুর একাদশে ছিলেন। একইভাবে মিডফিল্ডার জুবিমেন্দিও লিগের পাঁচটি ম্যাচে সাইডবেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ম্যাচের আগে এই দুই খেলোয়াড়ের ছিটকে পড়ার ঝুঁকি ক্লাবটির পরবর্তী কৌশলগত পরিকল্পনাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
