অ্যাস্টন ভিলায় পা রেখেই উনাই এমেরি ঘোষণা করেছিলেন তিনি ট্রফি জিততে এসেছেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে যখন এই স্প্যানিশ কোচ দায়িত্ব নেন, তখন অনেকের কাছেই এটি নিছক উচ্চাকাঙ্ক্ষা মনে হয়েছিল। কিন্তু তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ভিলা পার্কের দর্শকদের সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবের খুব কাছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠে নটিংহাম ফরেস্টকে বিধ্বস্ত করে ইউরোপা লিগের ফাইনালে পা রেখেছে অ্যাস্টন ভিলা। আগামী ২০ মে ইস্তাম্বুলে শিরোপার লড়াইয়ে জার্মানির ক্লাব ফ্রাইবুর্গের মুখোমুখি হবে তারা। ১৯৯৬ সালের লিগ কাপ জয়ের পর এটিই ভিলার সামনে প্রথম বড় কোনো শিরোপা জয়ের সুযোগ।
ভিলা পার্কের পরিবেশ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ এবং উৎসবমুখর। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানো ভিলা কোনো সুযোগই দেয়নি নটিংহাম ফরেস্টকে। অলি ওয়াটকিনসের দুর্দান্ত ওপেনিং এবং ইমি বুয়েন্দিয়ার পেনাল্টিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। এরপর জন ম্যাকগিনের জোড়া গোল গ্যালারিতে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দেয়। ৪৪ বছর আগে ১৯৮২ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল এই ক্লাবটি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইউরোপীয় মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ আসায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে স্বয়ং প্রিন্স উইলিয়াম এসে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান, যা ক্লাবটির জন্য এক অনন্য মুহূর্ত ছিল।
কোচ উনাই এমেরির জন্য এটি ষষ্ঠ ইউরোপা লিগ ফাইনাল হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি রেকর্ড চারবার এই শিরোপা জিতেছেন। এমেরি জানিয়েছেন যে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম এবং মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অলি ওয়াটকিনস গণমাধ্যমকে জানান যে এমেরির মতো অভিজ্ঞ কোচ তাদের সঙ্গে থাকায় তারা আত্মবিশ্বাসী। এখন কেবল ইস্তাম্বুলে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয়টি তুলে আনাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভিলার বর্তমান স্কোয়াড নিয়েও কিছু জল্পনা রয়েছে, তবে খেলোয়াড়রা এই সুযোগটিকে কিংবদন্তি হওয়ার শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
দলের সাফল্যের পেছনে ইমি বুয়েন্দিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা এই খেলোয়াড় চলতি মৌসুমে ১০টি গোল করে দলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। পেনাল্টি নেওয়ার সময় তার শান্ত ভঙ্গি এবং মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ভিলাকে আধিপত্য বিস্তার করতে সাহায্য করেছে। সাবেক ভিলা স্ট্রাইকার ডিয়ন ডাবলিন বুয়েন্দিয়ার প্রশংসা করে বলেছেন যে দলের সাফল্যের জন্য এমন লড়াকু খেলোয়াড় খুবই প্রয়োজন। ইস্তাম্বুলে জয় পেলে ভিলা কেবল ট্রফিই জিতবে না, বরং আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি খেলার টিকিটও নিশ্চিত করবে।
ক্লাবটির ইতিহাসে ১৯৮২ সালের সেই ইউরোপীয় কাপ বিজয়ীদের যেমন আজও মনে রাখা হয়, বর্তমান দলটি সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে চায়। অধিনায়ক জন ম্যাকগিন স্বীকার করেছেন যে ক্লাবের ইতিহাসে অনেক চড়াই-উতরাই ছিল, এমনকি রেলিগেশনের মতো যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তবে বর্তমানের এই মুহূর্তটি ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারে। ৩০ বছর পর বড় কোনো ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এখন কেবল এক ম্যাচ দূরে। ইস্তাম্বুলের সেই রাতটি অ্যাস্টন ভিলার ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
