বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

২০ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৬, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

২০ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল

দীর্ঘ ২০ বছর পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ১-০ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়ে বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিকেল আরতেতার দল। বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রথমার্ধে বুকায়ো সাকার করা একমাত্র গোলটিতে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে পৌঁছায় গানাররা। গত ২২ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা খরা কাটানোর চাপ দলটিকে ঘিরে রাখলেও, ইউরোপীয় মঞ্চে আর্সেনালের এই ধারাবাহিক ও অজেয় যাত্রা চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্সেনাল এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। ফাইনালে ওঠার পথে তারা বায়ার্ন মিউনিখ, ইন্টার মিলান এবং স্পোর্টিংয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলা ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই কোনো গোল হজম করেনি লন্ডনের এই ক্লাবটি। ২০০৫ সালের মার্চ থেকে ২০০৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যে রেকর্ড আর্সেনালের ছিল, এবার ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে তারা সেই পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০০৫ সালে লিভারপুলের পর কোনো ইংলিশ ক্লাবের ফাইনালে ফেরার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান।

ম্যাচ শুরুর অনেক আগে থেকেই এমিরেটস স্টেডিয়ামের বাইরের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। লাল ধোঁয়ার ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে সমর্থকরা দলের বাসকে স্বাগত জানান, যা স্টেডিয়ামটিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের কাছে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা এই পরিবেশকে অবিস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সমর্থকদের এই আবেগ এবং সমর্থন খেলোয়াড়দের মাঠে প্রতিটি মুহূর্ত সঠিকভাবে কাজে লাগাতে শক্তি জুগিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর ফাইনালে ফেরার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি পুরো দল এবং ক্লাবের সাথে যুক্ত সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মতো একটি কঠিন দলের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন এই স্প্যানিশ কোচ।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইসও কোচের কথার সাথে একমত পোষণ করেছেন। অ্যামাজন প্রাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দলের এই সাফল্যকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। রাইসের মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার জন্য বিশেষ মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। বুকায়ো সাকার গোলের পর স্টেডিয়ামের পুরো পরিবেশ বদলে যায় এবং তখন থেকেই রাইস অনুভব করছিলেন যে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, মাঝখানে কিছু সময় দলের পারফরম্যান্সে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেও, খেলোয়াড়রা এখন নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। আর্সেনালের সামনে এখন ঐতিহাসিক ডাবল শিরোপা জয়ের হাতছানি রয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের বিষয়টি এখন পুরোপুরি তাদের নিজেদের হাতে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে এভারটনের সাথে ড্র করে ম্যানচেস্টার সিটি পয়েন্ট হারানোয়, লিগ টেবিলে আর্সেনাল এখন ৫ পয়েন্টের পরিষ্কার ব্যবধানে শীর্ষে অবস্থান করছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে লিগে টানা দুটি হারের পর দলের এই ঘুরে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। গত সপ্তাহে ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় প্রমাণ করে যে খেলোয়াড়রা এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সতেজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতের এই জয়ে আরতেতার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোও বড় ভূমিকা রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিফাইনালে ১৯ বছর বয়সী মাইলস লুইস-স্কেলিকে মিডফিল্ডে মূল একাদশে খেলানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তিনি, যা ছিল সিনিয়র দলের হয়ে এই পজিশনে তার মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ। একই সঙ্গে ফরোয়ার্ড ভিক্টর ইয়োকেরেস, যিনি গত সপ্তাহান্তে দুটি গোল করেছিলেন, তিনি সাকার জয়সূচক গোলটি তৈরিতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল ইয়োকেরেসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। আগামী রবিবার প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে দলটির মনোযোগ আপাতত ঘরোয়া ফুটবলে থাকলেও, বুদাপেস্টে ইউরোপ সেরার মুকুট পরার স্বপ্ন এখন আর্সেনালের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব।

banner
Link copied!