ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও এভারটনের মধ্যকার ৩-৩ গোলের ড্রটি ফুটবল প্রেমীদের জন্য ছিল এক চরম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়েও এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে রেফারিং এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এভারটনের স্ট্রাইকার থিয়ের্নো বারির একটি গোল এবং পেনাল্টি না পাওয়ার ঘটনা ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিবিসি স্পোর্টস ও স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচটিতে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত সরাসরি ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে যা নিয়ে এভারটন বস ডেভিড ময়েস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত ছিল থিয়ের্নো বারির গোলটি। গোল করার সময় বারি অফসাইড পজিশনে থাকলেও রেফারি মাইকেল অলিভার গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় এভারটনের মিডফিল্ডার মার্লিন রোলের একটি পাস থেকে, যা সরাসরি সিটির ডিফেন্ডার মার্ক গুয়েহির পায়ে যায়। গুয়েহি বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার গোলরক্ষককে ব্যাক পাস দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি পাসটি দুর্বলভাবে দেন। সেই দুর্বল বলটি ধরে নিয়ে গোল করেন বারি। সহকারী রেফারি প্রথমে অফসাইডের পতাকা তুললেও অলিভার তা নাকচ করে দেন। ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ডিফেন্ডার সচেতনভাবে বলটি খেলেন এবং সেটি ভুল পাসে পরিণত হয়, তবে অফসাইড পজিশনে থাকা আক্রমণকারী আর অফসাইড থাকেন না। সাবেক ডিফেন্ডার অ্যান্ডি হিঞ্চক্লিফ এই ঘটনাকে গুয়েহির একটি বড় ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় যখন বার্নার্ডো সিলভা পেনাল্টি বক্সের ভেতর মার্লিন রোলকে টেনে মাটিতে ফেলে দেন। এভারটনের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জোরালো দাবি জানালেও ভিএআর রেফারি পল হাওয়ার্ড তাতে সাড়া দেননি। ভিএআর-এর যুক্তি ছিল, সিলভা যখন ফাউলটি করেছিলেন তখনো কর্নার কিিক নেওয়া হয়নি অর্থাৎ বল খেলার মধ্যে ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী, বল খেলার বাইরে থাকলে রেফারি খেলোয়াড়কে শাস্তি দিতে পারলেও ফ্রি-কিক বা পেনাল্টি দিতে পারেন না। ডেভিড ময়েস এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন যে যদি এমন ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়া হয়, তবে ডিফেন্ডারদের রক্ষণভাগ সামলানোর কৌশলই বদলে ফেলতে হবে।
এছাড়া মাইকেল কিনের একটি ট্যাকল নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেরেমি ডোকুর ওপর একটি বিপজ্জনক স্লাইড ট্যাকল করায় কিনের লাল কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রেফারি কেবল হলুদ কার্ড দেখিয়েই তাকে রেহাই দেন। ভিএআর বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে কিনের বুট ডোকুর পায়ের একদম নিচের অংশে আঘাত করেছিল, যা লাল কার্ডের জন্য পর্যাপ্ত তীব্র ছিল না। স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষকরা মনে করছেন কিন অত্যন্ত ভাগ্যবান যে তিনি মাঠ ছাড়তে হননি। ডোকুকে মাঠের বাইরে ৩০ সেকেন্ড চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হওয়ায় সিটির সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এভারটনের জন্য ভিএআর পরিসংখ্যানে একটি হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর মধ্যে কেবল এভারটনের পক্ষেই এখন পর্যন্ত ভিএআর-এর কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। এর বিপরীতে চেলসি ১১ বার ভিএআর-এর সিদ্ধান্তের সুফল পেয়েছে। যদিও প্রিমিয়ার লিগের কি-ম্যাচ ইনসিডেন্ট প্যানেল বলছে যে এভারটন বড় ধরনের কোনো ভুলের শিকার হয়নি, তবুও মাঠের এই সিদ্ধান্তগুলো তাদের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩-৩ গোলের এই ড্র হয়তো দর্শকদের রোমাঞ্চ দিয়েছে, কিন্তু ভিএআর ও ডিফেন্সিভ ভুলের এই বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে আরও কিছুদিন টিকে থাকবে।
