বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

হান্তাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু: স্পেনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৬, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

হান্তাভাইরাসে ৩ জনের মৃত্যু: স্পেনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান নেদারল্যান্ডসের একটি প্রমোদতরি বা ক্রুজ শিপে হান্তাভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সেটি এখন জরুরি চিকিৎসার লক্ষ্যে স্পেনের কানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে রওনা হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে এমভি হন্ডিউস নামের ওই জাহাজটিতে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য এই বিরল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে যারা প্রায় এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে এই সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে তাদের বন্দরে ভিড়ানোর অনুমতি দিয়েছে কারণ বর্তমান অবস্থানে থাকা কেপ ভার্দে এই ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানে সক্ষম নয়।

এই সংকটের মূলে রয়েছে হান্তাভাইরাস নামক একটি সংক্রমণ যা সাধারণত ইঁদুর বা বন্যপ্রাণী থেকে ছড়ায়। তবে এবারের প্রাদুর্ভাবটি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে ‘এন্ডিস স্ট্রেইন’ পাওয়া গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনটি মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ পর্যন্ত জাহাজে থাকা সাতজনের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে যার মধ্যে দুজন নিশ্চিত এবং পাঁচজন সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে একজন ডাচ নারী রয়েছেন এবং অন্যজন ৬৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক যাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।

এদিকে জাহাজটির ভেতর থেকে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে যে যাত্রীরা এক ধরণের অবরুদ্ধ ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জাহাজের অপারেটর ‘ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস’ জানিয়েছে যে বর্তমানে ২৩টি দেশের প্রায় ১৪৯ জন আরোহী কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মধ্যে জাহাজে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ২২ জন ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে জাহাজের খোদ ব্রিটিশ চিকিৎসক এবং আরও একজন ক্রু সদস্য মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে একটি বিশেষ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে যা তাদের দ্রুত কানারি দ্বীপপুঞ্জের হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে অপারগতা জানানোর পর স্পেন এগিয়ে এসেছে।

স্প্যানিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে কানারি দ্বীপপুঞ্জ হলো এই মুহূর্তে সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থান যেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত সক্ষমতা রয়েছে। আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই তারা এই মানবিক সহায়তা দিচ্ছে বিশেষ করে যখন জাহাজের ভেতরে বেশ কয়েকজন স্প্যানিশ নাগরিকও আটকে আছেন। জাহাজটি আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে গ্রান ক্যানারিয়া অথবা তেনেরিফে বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো বন্দরে জাহাজটি ভিড়বে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি কারণ স্থানীয় জনসংখ্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পর যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের বিশেষায়িত পরিবহনে করে সরাসরি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের সাথে তাদের কোনো প্রকার সংস্পর্শ যেন না ঘটে সেটি নিশ্চিত করার জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে প্রমোদতরিতে এই ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে কারণ আরোহীরা দীর্ঘ সময় একটি আবদ্ধ পরিবেশে অবস্থান করেন। ফলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্প্যানিশ সরকারের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!