আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসিই-এর কোনো অভিযান দেখা যাবে না বলে স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে মিয়ামি স্বাগতিক কমিটি। কমিটির সহ-সভাপতি রডনি ব্যারেটো গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছ থেকে এ বিষয়ে জোরালো নিশ্চয়তা পেয়েছেন। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ফুটবল বিশ্বমঞ্চে আসা দর্শকদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে যারা অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগে ছিলেন, তাদের জন্য এই ঘোষণাটি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যারেটো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন যে, আইসিই স্টেডিয়ামে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, এটি কোনো মানুষকে ‘ধরে নিয়ে যাওয়ার’ মতো ঘটনায় পরিণত হবে না। তার মতে, বিশ্বকাপের মূল উদ্দেশ্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা প্রদান করা, আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়। ব্যারেটো আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট খেলাধুলা পছন্দ করেন এবং শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পুলিশি সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও সহায়তা প্রদান করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে আলোচনার প্রসঙ্গে ব্যারেটো বলেন যে, সরকার সব দর্শকদের পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ এবং যাতায়াত সহজ করতে কাজ করছে। একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দর্শকরা যেন কোনো হয়রানি ছাড়া স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে পারেন, তা নিশ্চিত করা ফেডারেল সরকারের একটি বড় দায়িত্ব হবে। সরকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে মিয়ামি আয়োজক কমিটি মনে করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং ফুটবল প্রেমীরা কোনো ধরনের আইনি জটিলতার ভয় ছাড়াই খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বিরোধী অভিযান ও আইসিই-এর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফুটবল স্টেডিয়ামে অভিবাসন পুলিশের অনুপস্থিতির নিশ্চয়তা বেশ অর্থবহ। তবে দক্ষিণ ফ্লোরিডার জন্য বিশ্বকাপের আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা অনেকেরই মনে আছে। সেই সময় মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে টিকিটহীন ভক্তরা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করায় খেলা শুরু হতে দেরি হয়েছিল এবং অনেকে আহত হয়েছিলেন।
সেই নিরাপত্তা ব্যর্থতার বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যারেটো জানান যে, এবারের বিশ্বকাপে নিরাপত্তার বলয় বা পেরিমিটার থাকবে অত্যন্ত শক্তিশালী। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেডিয়ামের প্রবেশপথের কাছেও ভিড়তে দেওয়া হবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভিন্ন ধরনের দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে যেন আগের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। আইসিই-এর ভয়মুক্ত এবং বিশৃঙ্খলামুক্ত একটি সফল বিশ্বকাপ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর মিয়ামি কর্তৃপক্ষ।
