দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কোপা লিবার্তোদোরেস এক নজিরবিহীন সহিংসতার সাক্ষী হলো। কলম্বিয়ার মাটিতে স্বাগতিক ইন্ডিপেন্ডিয়েন্টে মেডেলিন এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গোর মধ্যকার ম্যাচটি দর্শকদের তাণ্ডব ও গ্যালারিতে অগ্নিসংযোগের কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেডেলিনের আতানাসিও গিরারডট স্টেডিয়ামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে, যা দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই গ্যালারিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। স্বাগতিক মেডেলিনের কট্টর সমর্থকরা গ্যালারিতে ফ্লেয়ার জ্বালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের শিখা ও ধোঁয়ায় স্টেডিয়ামের পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রেফারি দ্রুত খেলা বন্ধ করে দেন এবং খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে নিয়ে যান। শুরুতে খেলা সাময়িক বন্ধ রাখার কথা থাকলেও গ্যালারির সহিংসতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মেডেলিনের একদল উগ্র সমর্থক যাদের অনেকের মুখ মুখোশে ঢাকা ছিল, তারা মূলত ক্লাবের বর্তমান মালিকপক্ষ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিল। ক্লাবের অব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্ট এই সমর্থকরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে স্টেডিয়ামে তাণ্ডব চালানোকে বেছে নেয়। খেলা শুরুর পর দুই দফায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত কনমেবল কর্তৃপক্ষ ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষা করার পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দর্শকদের স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ফ্লামেঙ্গোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর হোসে বোতো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে স্বাগতিক দল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই নিয়মানুযায়ী ফ্লামেঙ্গোকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট দেওয়া উচিত। বোতো একটি ভিডিও বার্তায় বলেন যে এই বিশৃঙ্খলার জন্য ফ্লামেঙ্গো কোনোভাবেই দায়ী নয় এবং সফরকারী দল হিসেবে তারা কলম্বিয়ায় এসেছিল কেবল ফুটবল খেলতে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল মেডেলিন কর্তৃপক্ষের, যা তারা পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে গ্যালারিতে এই ধরনের সহিংসতা নতুন কিছু নয়, তবে লিবার্তোদোরেসের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সমালোচিত হচ্ছে। কনমেবল জানিয়েছে যে তারা এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে মেডেলিন ক্লাবের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। গ্রুপ `এ`-র এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির ভবিষ্যৎ কী হবে এবং ফ্লামেঙ্গোকে পয়েন্ট দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কর্তৃপক্ষ। আপাতত ফুটবলের সৌন্দর্য ছাপিয়ে কলম্বিয়ার সেই আগুনের শিখা ও ধোঁয়া ফুটবল বিশ্বের জন্য একটি অস্বস্তিকর স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেল।
