আগামীকাল শনিবার ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা এফএ কাপের ১৪৫তম ফাইনাল। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতার ১৫৪ বছরের দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে স্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর ৫০টি মুহূর্ত নির্বাচন করা হয়েছে। ১৮৭২ সালে ওভালে ওয়ান্ডারার্স যখন রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্সকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিল, তখন কেউই ভাবেনি এই টুর্নামেন্ট একদিন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে অনিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় পরিণত হবে।
এফএ কাপের ইতিহাস আসলে ছোটদের বড় হয়ে ওঠার গল্প।
এবারের আসরেও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন থেকে শুরু করে পাড়ার দল পর্যন্ত মোট ৭৪৭টি ক্লাব অংশ নিয়েছে। প্রতিযোগিতার সেরা ৫০টি মুহূর্তের তালিকার প্রথম পর্বে আজ তুলে ধরা হলো ৫০ থেকে ২৬ নম্বর পর্যন্ত ঘটনাগুলো। তালিকার ৫০ নম্বরে রয়েছে ১৯৮৯ সালে কনফারেন্সের দল সাটন ইউনাইটেডের হাতে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কভেন্ট্রি সিটির পরাজয়। ঠিক একইভাবে ১৯৮৪ সালে হ্যারি রেডন্যাপের বোর্নমাউথের কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২-০ গোলের হার আজও ফুটবল প্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।
তালিকায় উঠে এসেছে অদ্ভুত সব ঘটনাও। ২০০১ সালে ওয়াইকোম্বের ম্যানেজার লরি সানচেজ যখন ইনজুরিতে জর্জরিত দলে খেলোয়াড় খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন `সিফ্যাক্স` বা টেলিটেক্সটে বিজ্ঞাপন দিয়ে খুঁজে পেয়েছিলেন রয় এসান্দোহকে। সেই অখ্যাত ফুটবলারের গোলেই লেস্টার সিটিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল দলটি। আবার ১৯৯১ সালের ফাইনালে ব্রায়ান ক্লাফ এবং টেরি ভেনেবলসের হাত ধরে মাঠে নামার দৃশ্যটি ছিল যেমন অদ্ভুত, তেমনি আবেগঘন। সেই ম্যাচে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়া পল গাসকোয়েনের ট্র্যাজেডিও স্থান পেয়েছে তালিকার ৩৬ নম্বরে।
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয়ের পথে ইউনাইটেডকে হারানো কিংবা ২০০১ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে মাইকেল ওয়েনের সেই অবিশ্বাস্য কামব্যাক ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক ফাবিয়েন বার্থেজ যখন অফসাইডের ভান করে হাত তুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর পাওলো ডি ক্যানিও বল জালে জড়াচ্ছিলেন, সেই মুহূর্তটি আজও হাস্যরসের খোরাক জোগায়। আবার ১৯৯৬ সালের ফাইনালে লিভারপুলের খেলোয়াড়দের সেই অদ্ভুত `ক্রিম কালার` সুট পরা ছিল ফুটবল ফ্যাশন দুনিয়ার এক চরম ব্যর্থতা, যা ইউনাইটেডের কাছে হারের পর আরও বেশি সমালোচিত হয়।
প্রথাগত ফুটবলের বাইরেও মানবিকতা ও খেলোয়াড়সুলভ আচরণের উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন আর্সেন ভেঙ্গার।
১৯৯৯ সালে শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিপক্ষে একটি বিতর্কিত গোলের পর ভেঙ্গার নিজেই ম্যাচটি পুনরায় খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা ছিল নজিরবিহীন। এফএ কাপ কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি ক্যাভানাঘের মতো সমর্থকদের মাঠে ঢুকে পড়া কিংবা পেট্র চেকের অবিশ্বাস্য সব সেভ করার মঞ্চ। ১৯২৭ সালে কার্ডিফ সিটির হাত ধরে কাপের ইংল্যান্ডের বাইরে চলে যাওয়া কিংবা ১৯৯৭ সালে রুড গুলিটের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে শিরোপা জয়—প্রতিটি ঘটনাই এই টুর্নামেন্টের আভিজাত্য বাড়িয়েছে। তালিকার বাকি ২৫টি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত নিয়ে আগামীকাল প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত পর্ব।
