অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের অ্যাভালন বিমানবন্দরে সন্দেহভাজন একটি ব্যাগ ঘিরে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাগটি স্ক্যান করার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হলে পুরো এলাকায় বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের একাংশ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে পুলিশ।
মেলবোর্ন শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি প্রায় চার ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় সময় ভোর ৬টার ঠিক আগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ব্যাগ স্ক্যান করার সময় সন্দেহভাজন বস্তুর সংকেত পেয়ে দ্রুত বোম্ব স্কোয়াডকে ডাকা হয়েছিল। পরে বিশেষজ্ঞরা প্যাকেটটি পরীক্ষা করে দেখতে পান, এর ভেতরে শুধু একটি লেজার হেয়ার রিমুভাল যন্ত্র এবং হট চকলেটের একটি কৌটা রাখা ছিল।
নিত্যব্যবহার্য এই সাধারণ জিনিসগুলোই পুরো বিমানবন্দরে মারাত্মক এক বোমা আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল।
ব্যাগের মালিককে পুলিশ শুরুতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ভিক্টোরিয়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক নিক উয়েবারগ্যাং জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি প্রথমদিকে পুলিশকে কোনো তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেননি। তাঁর এই অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণের কারণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এত বেশি সময় লেগেছে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মেলবোর্নের ওই বাসিন্দাকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সূচিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে সিডনিগামী এবং সিডনি থেকে আসা অন্তত দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। মূলত কোয়ান্টাস এয়ারলাইন্সের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জেটস্টারের বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আতঙ্ক চলাকালীন সাধারণ যাত্রীদের বিমানবন্দরের বাইরের একটি কারপার্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। সেখানে শৌচাগার বা পানীয়র কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ অপেক্ষায় শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অ্যাভালন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই দ্রুত এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে ভিক্টোরিয়া রাজ্যের দ্বিতীয় ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
