পরিত্যক্ত ও অনিরাপদ ভবনে অনধিকার প্রবেশের বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধে সন্তানদের সতর্ক করতে অভিভাবকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকজন কিশোর-তরুণ গুরুতর আহত হওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়। উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ প্রশাসন।
আহতদের মধ্যে একজন কাচের ছাদ ভেঙে নিচে পড়ে গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, সেই ঘটনায় ওই কিশোরের মুখের একাংশ মারাত্মকভাবে কেটে যায় এবং তার একটি হাত ভেঙে যায়। আরেকটি ঘটনায় একটি তালাবদ্ধ ভবনের চত্বরে প্রবেশের চেষ্টাকালে ওপর থেকে পড়ে গিয়ে এক শিশুর পা ভেঙে যায়। মে মাসেই পুলিশ, আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও ওয়েস্ট নর্থহ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল জানিয়েছিল যে পরিত্যক্ত ভবনে ঢোকার এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অনেকে ভেতরে প্রবেশের দৃশ্য ধারণ করে টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় আবাসন ও সম্প্রদায় বিষয়ক মন্ত্রিসভার সদস্য চার্লি হ্যাসটি জানান, সামাজিক মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডকে রোমাঞ্চকর মনে হলেও বাস্তবে ভবনগুলো চরম বিপজ্জনক এবং সেগুলোর বেশিরভাগই কাঠামোগতভাবে নড়বড়ে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে নর্থহ্যাম্পটন শহরকেন্দ্রে একদল কিশোর একটি বহুতল ভবনের ছাদে উঠে পড়ে। ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তাদের একজন গুরুতর জখম হয় এবং হাড় ভাঙার শিকার হয়। অ্যাম্বুলেন্স সেবার পাশাপাশি বাকি দুজনকে অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে আনতে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে আকাশযান বা এরিয়াল যন্ত্রপাতির সাহায্য নিতে হয়। পুরো অভিযানটিতে দীর্ঘ সময় ও ব্যাপক জনবল প্রয়োজন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নর্থহ্যাম্পটন নেইবারহুড পুলিশিং দলের কর্মকর্তা স্কট পটার জানান, অনেক তরুণ এই চর্চাকে উত্তেজনাপূর্ণ মনে করলেও সেখানে ভাঙা কাচ, বিপজ্জনক উন্মুক্ত কিনারা ও ধসে পড়ার উপযোগী মেঝের মতো বড় ধরনের প্রাণঘাতী ফাঁদ লুকিয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে এসব কাঠামো তৈরি হয়নি বলে সতর্ক করেন তিনি। এর আগে ২০১৯ সালেও মাটির নিচের ভূগর্ভস্থ নর্দমায় পথ হারিয়ে আটকে পড়া ১৬ বছর বয়সী চার কিশোরকে ম্যানহোল কেটে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
