গাম্বিয়ার বিতর্কিত প্যারামিলিটারি বাহিনী `জাংলার্স`-এর সাবেক প্রধান সানা মানজাংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া জামেহর কুখ্যাত সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই লেফটেন্যান্ট কর্নেলের বিরুদ্ধে বাহিনী থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজধানী বানজুলের সামরিক আদালতে সোমবার এই শুনানির মধ্য দিয়ে সাবেক সরকারের আমলের অপরাধগুলোর বিচার নিশ্চিতের নতুন পদক্ষেপ শুরু হলো।
নয় বছর ধরে বাহিনী থেকে পালিয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সামরিক কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে ইয়াহিয়া জামেহর দুই দশকের শাসনের অবসান ঘটার পরপরই মানজাং দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রতিবেশী সেনেগালে তিনি গ্রেফতার হন এবং তার এক মাস পর তাঁকে গাম্বিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। গাম্বিয়ান সেনাবাহিনী থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়া এই জাংলার্স বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্মম নির্যাতনের একাধিক প্রমাণ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
২০১৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা আদামা ব্যারোর কাছে পরাজিত হয়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট জামেহ।
সরকার পরিবর্তনের পর গঠিত সত্য, পুনর্মিলন ও ক্ষতিপূরণ কমিশনের তদন্তে উঠে আসে যে জামেহর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় মদদে অন্তত ২৪০ থেকে ২৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। গাম্বিয়ার বাইরেও জামেহর বেশ কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে মানজাংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক দেইদা হায়দারাকে ২০০৪ সালে গুলি করে হত্যাসহ চারটি খুনের অভিযোগ গঠন করা হলেও গত জুলাইয়ে তা প্রত্যাহার করে নেয় রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে আদালতে হাজির করতে না পারায় সেই হত্যা মামলা খারিজ হয়ে যায়। হায়দারাকে হত্যার পাশাপাশি অপর তিনজনকে হত্যা এবং তাদের মধ্যে একজনকে নিজ হাতে শিরশ্ছেদ করার গুরুতর অভিযোগ ছিল মানজাংয়ের বিরুদ্ধে। হত্যা মামলা খারিজের পর বর্তমানে অন্য দুই ব্যক্তির ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি আলাদা নিয়মিত আদালতে বিচারকাজ চলছে।
