তিন দশক আগে ১৯৯৪ সালে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির সাবেক কর্মকর্তা ও পেশায় চিকিৎসক ৬৫ বছর বয়সী ভিনসেন্ট ব্রাউনের বিরুদ্ধে রাজধানী কিগালিতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ গঠন করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। মঙ্গলবার লন্ডনের একটি আদালতে হাজির হলেও তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
আদালতে তিনি শুধু নিজের নাম ও ঠিকানা নিশ্চিত করেছেন।
কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, অতীতে ভিনসেন্ট বাজিনিয়া নামে পরিচিত এই সাবেক সরকারি কর্মকর্তা গণহত্যার সূচনালগ্নে রুয়ান্ডার জাতীয় জনসংখ্যা দপ্তরের অধীন পরিবার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৪ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে চার দিনের ব্যবধানে তিনি এক তরুণী মা ও তাঁর কোলের শিশুসন্তানসহ অন্তত ছয়জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। একশ দিনের সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে তুতসি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ ব্যক্তিসহ আট লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
ব্রাউন ১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং লন্ডনে উদ্বাস্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে কাজ করা একটি দাতব্য সংস্থায় যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব লাভের সময় তিনি নিজের পারিবারিক পদবি পরিবর্তন করেন। ২০০৬ সালে প্রথম গ্রেপ্তার হলেও রুয়ান্ডা সরকারের প্রত্যর্পণ আবেদন ২০১৭ সালে ব্রিটিশ আদালত বাতিল করে দেয়। এরপর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাস দমন বিভাগ কিগালির রুগেনগে জেলায় সংঘটিত অপরাধের ওপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে এক জটিল আন্তর্জাতিক তদন্ত পরিচালনা করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী স্যাম ব্লম-কুপার আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার এই আইনি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে চিফ ম্যাজিস্ট্রেট পল গোল্ডস্প্রিং ২৫ হাজার পাউন্ডের আর্থিক জামানতের বিনিময়ে ব্রাউনকে জামিন মঞ্জুর করেছেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটি লন্ডনের সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্ট বা ওল্ড বেইলিতে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে আগামী ৯ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। লন্ডন পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্ল্যানাগান স্পষ্ট করেছেন যে, যত বছরই পেরিয়ে যাক না কেন, আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাজ্য কখনোই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না।
