সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তিন দশমিক সাত বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় চার দশমিক এক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি আইনপ্রণেতারা। সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি জানিয়েছে, এই ভোটের ফলে জাতীয় ঘাটতি কমানোর সরকারি প্রচেষ্টা বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
২০২৭ সালের সামাজিক সুরক্ষা অর্থায়ন বিলের একটি অংশ ছিল এই প্রস্তাবটি। যে সমস্ত কোম্পানি কর্মীদের লভ্যাংশ বা শেয়ার মালিকানা বোনাস দেয়, তাদের জন্য নিয়োগকর্তা অবদান মওকুফ সুবিধা এই বিধানের মাধ্যমে কমানো হতো।
টানা তিন দিন বিতর্কের পর বিলের সাত নম্বর ধারাটি খারিজ করে দেন সংসদ সদস্যরা। এই আলোচনা চলাকালে বেশ কয়েকটি ভোটাভুটি হয়, যার মাধ্যমে হয় সম্ভাব্য রাজস্ব কমিয়ে দেওয়া হয় অথবা নতুন ব্যয় বাড়ানো হয়।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিধানটি বাদ দেওয়ার পক্ষে সংশোধনী এনেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শিবির এবং রাজনৈতিক ডানপন্থী আইনপ্রণেতারা। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর বলে যুক্তি দেখান এর বিরোধিতাকারীরা।
সেশনের সময় এই ফলাফলের তীব্র সমালোচনা করেন সমাজতান্ত্রিক আইনপ্রণেতা জেরোম গুয়েডজ। তিনি সহকর্মী সংসদ সদস্যদের অভিযুক্ত করে বলেন, আপনারা এই সামাজিক সুরক্ষা অর্থায়ন বিলটি ধ্বংস করে দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে ব্যবস্থার আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ঝুঁকিতে ফেলছেন।
সংসদের এসব প্রস্তাবের আর্থিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন শ্রমমন্ত্রী জঁ-পিয়ের ফারান্দু। তিনি বলেন, আমরা গতকাল যে ১৫ মিলিয়ন বা ১০০ মিলিয়ন নিয়ে কথা বলছিলাম, এখন আর তা নেই, আমরা এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরোর কথা বলছি।
সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সম্ভাবনা উত্থাপন করেন গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা সঁদ্রিন রুসো। অতীতে সম্মত হওয়া সমঝোতাগুলো বিরোধীরা পরিত্যাগ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২০২৬ সালে সামাজিক সুরক্ষার সম্ভাব্য ২১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো ঘাটতি কমিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরোতে নামিয়ে আনতে চায় সরকার। পুরো রাজস্ব বিভাগটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বিলের বাকি ব্যয় সংক্রান্ত বিধানগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নাও পেতে পারেন আইনপ্রণেতারা।
