বুধবার আরবি লিপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। জোসে মরিনহোর দলের হয়ে এ ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। প্রথমার্ধের শেষভাগে কাছ থেকে শট নিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন বার্নার্দো সিলভা। এরপর বিরতির ঠিক পরপরই রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্দা গুলার।
,ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেছেন, সেরা আটে জায়গা করে নিতে প্রতিটি পয়েন্ট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তারা জানেন। তিনি বলেন, আমাদের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জিততে হবে, এরই মধ্যে আমরা তিনটি জিতেছি এবং আরও পাঁচটি ম্যাচ বাকি আছে। আগামী সপ্তাহে ব্যালন ডি অর জেতার অপেক্ষায় থাকা এই ফরাসি ফরোয়ার্ড চলতি মৌসুমে রিয়ালের প্রতিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচেই গোল করেছেন এবং ১২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ১২টি। নিজের ফর্ম নিয়ে তিনি বলেছেন, আমি ভালো খেলছি তবে আমি বিশ্বাস করি আরও ভালো করা সম্ভব।
,এদিকে স্পোর্টিংকে হারিয়ে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে লাস্ক। ম্যাচের শুরুতেই লুইস সুয়ারেজ পেনাল্টি থেকে গোল করলে পিছিয়ে পড়ে অস্ট্রিয়ার চ্যাম্পিয়নরা। তবে দশ মিনিট পরেই ক্রিস্টফ লাংয়ের গোলে সমতা ফেরায় তারা। এরপর এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিয়ে সাসা কালাদজিক ও ক্রিস্টফ দানেকের গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অতিথিরা। ম্যাচের শেষদিকে সুয়ারেজ আরও একটি গোল করলেও হার এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।
,অপর ম্যাচে স্তাদ পিয়েরে মরয় স্টেডিয়ামে লিলকে উড়িয়ে দিয়েছে গালাতাসারায়। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ইউনুস আকগুনের গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। তবে সোরিবা দিয়াওনের গোলে সমতা ফেরায় লিল এবং ৩৯ মিনিটে গোল করে তাদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও দেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আলেক্সেই বাত্রাকভ গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন। এরপর নাবিল বেন্তালিবের আত্মঘাতী গোল এবং ভিক্টর ওসিমহেনের গোলে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে গালাতাসারায়।
,খেলার দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বিপাকে পড়েছিল ইন্টার মিলান। তবে কার্লোস আগুস্তোর শেষ মুহূর্তের গোলে শাখতার দোনেৎস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে লিগ পর্বে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাস্তোনি। এরপর ৭৭ মিনিটে দারুণ এক দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে ইন্টারের জয় নিশ্চিত করেন কার্লোস আগুস্তো।
,ফেইনুর্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে ইসকোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল বেতিস। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে তারা। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল বেতিস। তবে জেরেমিয়া সেন্ট জুস্ট ডি বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল করলে পেনাল্টি পায় তারা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডান দিকের নিচু কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ইসকো।
,জান ব্রেইডেল স্টেডিয়ামে Lens-এর বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে ক্লাব ব্রুজ। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বেলজিয়ান এই ক্লাবটি। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে হানস ভানাকেনের গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে জোয়াকিন সিস ও কার্লোস ফরবস আরও দুই গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
,ইউরোপের শীর্ষ এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলের লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে দলগুলো নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বড় দলগুলোর জয়ের ধারা অব্যাহত থাকায় ইউরোপজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আগামী ম্যাচগুলোতে আরও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সমর্থকরা।
,এই মৌসুমে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে দলগুলো যেভাবে পারফর্ম করছে, তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের লড়াই যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতপূর্ণ হবে তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিক্টর ওসিমহেনের মতো তারকাদের গোলখরা না থাকায় প্রতিটি ম্যাচেই গোলের উৎসব দেখা যাচ্ছে। কোচদের ট্যাকটিক্যাল লড়াই আর ফুটবলারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এই মৌসুমের টুর্নামেন্টকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
,আসন্ন ম্যাচগুলোতে কোন দলগুলো নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে এবং কারা ছিটকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ক্লাবগুলোর এই ব্যস্ত সূচির মাঝে ইনজুরি ও স্কোয়াডের গভীরতাও বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয় ফুটবলের এই জমজমাট লড়াই আরও নাটকীয় মোড় নেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
