মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

খেরসন যুদ্ধবিরতি

খেরসনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান স্থগিত: কার্যকর হলো স্থানীয় যুদ্ধবিরতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

খেরসনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান স্থগিত: কার্যকর হলো স্থানীয় যুদ্ধবিরতি

স্থানীয় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের খেরসন প্রদেশে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গ্রিনউইচ মান সময় রাত ১:০০টায় এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে খেরসনের দক্ষিণাঞ্চলের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি শহরে একটি মানবিক সহায়তা মিশন পরিচালনার সুবিধার্থে এই যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীরা জানান, নিরাপদ করিডোর চালুর আগে শহরটিতে চিকিৎসক দল, ওষুধ, খাদ্যসামগ্রী ও পানি পৌঁছে দেওয়া হবে।

সম্মুখ সমর এলাকা থেকে জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং বেসামরিক লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওলেশকি শহরে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চরম সংকট চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প পোপ লিওর সঙ্গে মিলে এই সমঝোতার মধ্যস্থতা করেন। গত সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ এটি।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওলেশকি শহরে এখনো প্রায় দুই হাজার বাসিন্দা আটকা পড়ে আছেন। চারপাশের এলাকায় পুঁতে রাখা মেইন এবং অবিরাম ড্রোন হামলার কারণে তারা শহর ছেড়ে যেতে পারেননি।

আংশিক দখলকৃত খেরসন অঞ্চলে দ্নিপ্র নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি। ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন শহরের ঠিক বিপরীত দিকে এর অবস্থান। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আগ্রাসনের শুরুর দিনগুলোতে রুশ সেনারা শহরটি দখল করে এবং তখন থেকেই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যুদ্ধের আগে এই জনপদে ২৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। ২০২৩ সালে নিকটস্থ কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস হওয়ার পর ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মারাত্মক বন্যার শিকার হয় এলাকাটি।

বর্তমান এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতি আগামী শনিবার পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা রয়েছে, তবে এর মেয়াদ বাড়ানোও হতে পারে। মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার তীব্র আস্থার সংকটের কারণে অতীতে যুদ্ধবিরতির বহু উদ্যোগই ভেস্তে গেছে।

banner
Link copied!