রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইউক্রেন শান্তি আলোচনা

আবুধাবিতে মার্কিন মধ্যস্থতার শান্তি আলোচনায় ইউরোপের অংশগ্রহণ: নিশ্চিত করল ফ্রান্স

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

আবুধাবিতে মার্কিন মধ্যস্থতার শান্তি আলোচনায় ইউরোপের অংশগ্রহণ: নিশ্চিত করল ফ্রান্স

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন মধ্যস্থতায় হতে যাওয়া আসন্ন বৈঠকে ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোদেল বারো আরটিএল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই বৈঠকে ইউরোপীয়রা প্রতিনিধিত্ব করবে এবং ফ্রান্সও সেখানে অংশ নেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও সমগ্র ইউরোপকে যুক্ত করে একটি বিশাল চুক্তির পূর্বাভাস দেওয়ার পরপরই ফরাসি এই ঘোষণা এল।

আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আলোচনাটি শীর্ষ নেতাদের পরিবর্তে কেবল ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ত্রিভুজীয় বিন্যাসে হবে বলেই জানানো হয়েছিল। তবে এতে কারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপের জোরালো সম্পৃক্ততার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। অথচ রাশিয়া এর আগে বারবার বলে আসছিল যে আলোচনার টেবিলে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের কোনো স্থান থাকবে না।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো উল্লেখ করেন যে অতীতের কিছু আলোচনায় ইউরোপীয়দের বাদ দেওয়া হলেও এবার তারা তাতে অংশ নেবেন। ফ্রান্স সেখানে উপস্থিত থাকবে এবং ইউরোপের কণ্ঠস্বর যেন জোরালোভাবে শোনা যায় তা নিশ্চিত করবে বলে যোগ করেন তিনি।

আবুধাবি বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইউক্রেন ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। ন্যাটোর একজন মুখপাত্র জানান, তারা ইউক্রেনে যুদ্ধের একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী সমাপ্তির পথ খোঁজার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ব্রাসেলসের ওই বৈঠকে যুক্ত হন। তিনি জানান, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে কাজ করছে।

ইউরোপীয় মিত্ররা মার্কিন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখছে, কারণ তারা মস্কোর পক্ষ থেকে ইউরোপীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা বদলে ফেলার যে কোনো প্রচেষ্টাকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর আগে ক্রেমলিন ন্যাটোকে পূর্ব ইউরোপ থেকে তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার একটি চরম আলটিমেটাম দিয়েছিল, যা পশ্চিমা সামরিক জোটটি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছিল।

কুশনার গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে আবুধাবি আলোচনার ফাঁকে ওয়াশিংটন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বৈঠকে কোনো অগ্রগতি হলে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণে একটি বিস্তৃত বহুপক্ষীয় বিন্যাসে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

banner
Link copied!