কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে করপোরেট মূলধনী ব্যয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে দানা বাঁধা শঙ্কার কারণে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা গত ৫ জুনের পর থেকে এই সূচকের সবচেয়ে বড় পতন। ওইদিন সূচকটি ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল।
এর পাশাপাশি, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ পতন রেকর্ড করেছে, যা গত ২৯ জুলাইয়ের পর থেকে এর সবচেয়ে বড় এক দিনের দরপতন। ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন নামে পরিচিত শীর্ষ বাজার গোষ্ঠীর প্রায় সবকটি বড় প্রতিষ্ঠানই উল্লেখযোগ্য পতনের মুখে পড়েছে এবং একমাত্র অ্যাপল এই নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মেটার সর্বশেষ আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়। ফেসবুকের মূল এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের চলতি বছরের সম্ভাব্য মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে এবং একই সময়ে নিট মুনাফার প্রত্যাশাও পূরণ করতে পারেনি।
এই খাতের অন্যান্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোও লোকসানের মুখ দেখেছে। অ্যামাজনের শেয়ার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এনভিডিয়ার শেয়ার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, টেসলা ও অ্যালফাবেটের শেয়ার উভয়ই ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং মাইক্রোসফটের শেয়ার ২ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এই শেয়ার বিক্রি বা সেলঅফের ঢেউ বৃহত্তর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও গ্রাস করেছে। ইন্টেল এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস উভয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে এবং ব্রডকমের দর কমেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
সেশন শেষে নাসডাক সূচক গত ৬ অক্টোবর অর্জিত এর সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নিচে অবস্থান করছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়ায় বাজার পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রবার সকালেও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৪ দশমিক ২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত মের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তর।
ওয়াল স্ট্রিটের এই মন্দার প্রভাবে শুক্রবার এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলো পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে। জাপানের নিকেই ২২৫ সূচক সকালের লেনদেনে ২ শতাংশের বেশি পতন দেখানোর পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়।
সান ফ্রান্সিসকোর সিপোর্ট রিসার্চ পার্টনার্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জে গোল্ডবার্গ জানান যে বাজারের এই ওঠানামা মূলত মৌলিক অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগকারীদের আবেগের কারণে ঘটেছে। গোল্ডবার্গ উল্লেখ করেন যে মৌলিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বিনিয়োগকারীরা কেবল আতঙ্কে ভোগার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডাটা সেন্টার এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটে বিশাল করপোরেট বিনিয়োগ দুই হাজার সালের ডটকম ধসের মতো কোনো বুদ্বুদের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ওয়াল স্ট্রিটে তীব্র বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক বর্তমান ব্যয়ের স্তরকে টেকসই নয় বলে মনে করলেও অন্যরা দাবি করেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজকে এতটাই বদলে দেবে যে এই খরচ পুরোপুরি যৌক্তিক।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গার্টনার পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগ ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং পরবর্তীতে ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।
