দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বহুপক্ষীয় ট্রাস্ট ফান্ড গঠনে সম্মত হয়েছে সিরিয়া এবং বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের অর্থায়ন উৎসাহিত করা।
,স্টার্ট বা সিরিয়া রিকভারি অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ট্রাস্ট ফান্ড নামের এই তহবিলটি স্বল্প সুদে অর্থায়ন, বিনিয়োগের গ্যারান্টি, কারিগরি সহায়তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
,প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া পুনর্গঠনে ২১৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রাক্কলন করেছিল বিশ্বব্যাংক। এই বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই প্রয়োজন হবে অবকাঠামো, আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে।
,এই অঙ্কটি দেশটির ২০২৪ সালের প্রাক্কলিত মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ গুণের সমান। এই বিশাল ব্যবধানই বলে দেয় যে জাতীয় পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সফল করতে কতটা ব্যাপক পরিমাণ অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন।
,সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, দাতা গোষ্ঠী, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং সিরিয়ার স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই তহবিল পরিচালনা করবে বিশ্বব্যাংক। এর সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে সিরীয় রাষ্ট্র নির্ধারিত অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে।
,এই তহবিল আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহ এবং সহায়তা ও অর্থায়নের মধ্যে সমন্বয় সাধনে বড় ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ দ্রুততর করতে কাজ করবে এটি।
,অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসর বার্নিহ জানিয়েছেন, এই চুক্তি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল। এর মাধ্যমে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সুচারুভাবে সম্পদ পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
,তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রতি সিরিয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই নীতিগুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বাড়াবে এবং সিরিয়ার জনগণের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
,পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক কুতাইবা কাদিাশ জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অংশীদার ও দাতাদের মনে আস্থা তৈরি করতে এই তহবিল একটি স্বচ্ছ কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
,থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার পাশাপাশি আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে এই তহবিলের লক্ষ্য, কাঠামোগত রূপরেখা এবং কার্যক্রমের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
,আরব অঞ্চল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অংশীদাররা এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং তহবিলে আর্থিক অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
,কৃষি খাত, জ্বালানি উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবামুখী খাতের অবস্থার উন্নতির সুবাদে ২০২৬ সালে সিরিয়ার অর্থনীতিতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এই ইতিবাচক ধারা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
