তহবিলের তীব্র ঘাটতির কারণে গাজায় নিজেদের ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিশাল জনগোষ্ঠীর যখন পর্যাপ্ত খাবারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে, তখন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৬ সালে ফিলিস্তিন কার্যক্রমে অর্ধেকেরও কম তহবিল তারা পেয়েছে। আগামী ছয় মাসে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে তাদের আরও ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন।
সংস্থাটি গাজায় মাসিক সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামিয়ে আনবে। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া খাদ্য সহায়তার পরিমাণ দুটি পার্সেল থেকে কমিয়ে একটি করা হবে এবং ময়দার বস্তার আকারও ছোট করা হবে।
প্রতিদিন সরবরাহ করা গরম খাবারের পরিমাণ আড়াই লাখ থেকে কমে দেড় লাখে নামবে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছাকাছি অঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো প্রতিদিনের পরিবর্তে এখন থেকে একদিন পর পর গরম খাবার পাবে।
ইসরায়েলের ওপর হামাসের নেতৃত্বাধীন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। খাদ্য, পানি, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মেটানোই এখানকার সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের প্রাক্কলন বলছে, ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার এবং বাজারে তাজা বা আমিষসমৃদ্ধ খাবার থাকলেও তা কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে মাত্র একজন পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে সীমিত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও।
গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ বা ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকটে বা তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এই সংখ্যাটি ছিল ১৬ লাখ বা জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির এই উন্নতি খুবই সামান্য এবং অত্যন্ত ভঙ্গুর।
তহবিলের এই ঘাটতি ইতিমধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ওই অঞ্চলে সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা চার লাখ থেকে কমিয়ে দুই লাখে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
